মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে কুষ্টিয়ায় ১০০ শিক্ষার্থীকে মোট ২০ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (এ+) পাওয়া নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে এ বৃত্তি দেওয়া হয়।
গত ২৪ অক্টোবর কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়। ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং স্বপ্নশীলন ক্যারিয়ার কেয়ারের ব্যবস্থাপনায় ‘আলহাজ্ব বেলায়েত হোসেন শিক্ষাবৃত্তি’ কার্যক্রমের আওতায় এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারাও বিতরণ করা হয়।
ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বশির আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এ এন এম মেশকাত উদ্দিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তৈয়ব ইউনুছ আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুল লতিফ শেখ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কুষ্টিয়ার উপপরিচালক মো. হেলালউজ্জামান, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংগীতশিল্পী বিপাশা ইয়াসমীন এবং ওয়েস্টার্ন গ্রুপের চেয়ারম্যান নার্গিস আহমেদ।
বক্তারা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এমন উদ্যোগ নেওয়ায় ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে কুষ্টিয়াসহ এ অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং সুশিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে উঠবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, শিক্ষাজীবনে পাওয়া এ সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের যোগ্য ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না থেকে সহশিক্ষা কার্যক্রম, সামাজিক উদ্যোগ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বহুমুখী প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বশির আহমেদ বলেন, “উচ্চশিক্ষা অর্জনে অর্থ যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায় এবং মেধাবীরা যেন নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী দেশের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জায়গা করে নিতে পারে, সেই লক্ষ্যেই সাত বছর আগে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের পক্ষ থেকে আলহাজ্ব বেলায়েত হোসেন শিক্ষাবৃত্তি চালু করি।”
তিনি বলেন, এ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অনেকেই এখন চিকিৎসা, প্রকৌশল ও কৃষিসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন। তাঁদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে সহযোগিতা করতে পেরে তাঁরা গর্বিত।
স্বপ্নশীলনের নির্বাহী পরিচালক হাফিজ আল আসাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন লেখক, সংগঠক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্মপরিচালক নাজমুল হুদা। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রমের আহ্বায়ক ও জাতীয় ক্রীড়া সংগঠক মো. আমিরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বৃত্তি কার্যক্রমকে আরও সহজ, প্রযুক্তিবান্ধব ও ফলপ্রসূ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ারবিষয়ক দিকনির্দেশনা যুক্ত করা গেলে এ উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে।