জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন তিনি। এ সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা।
সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী। তার সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান।
সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি ঢাকার মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সফরকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা, শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন এবং বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।
প্রথম দিন যেসব কর্মসূচি
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানাবেন জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা। সফরকালে টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী।
সোমবার বিকেলে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি। এ সময় লিগের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশি উপস্থিত থাকবেন।
একই দিন জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
সন্ধ্যায় নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।
২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক
সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক করবেন তারেক রহমান। বৈঠকের আগে তাকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ সংবাদ সম্মেলন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
বিশেষ করে ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় কমানো এবং জাপান থেকে নেওয়া ঋণের সুদের হার হ্রাসের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। এ ছাড়া অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিন জাপানের চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে জেরা (জেইআরএ)-এর স্থলভিত্তিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে।
বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্ব
সফরের তৃতীয় দিন বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তারেক রহমান। পরে জাপানের তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
একই দিন জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক ও তার দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন এবং জেরার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন তিনি। জাপানের আরও ১৪টি বিশিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুটি দলীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এসব বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
বিকেলে টোকিওর জেট্রো ভবনে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
একই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দূতাবাসে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারীদের সঙ্গে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তারেক রহমান। পরে টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।
টয়োটার কারখানা পরিদর্শন শেষে দেশে ফিরবেন
সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেনে টোকিও থেকে নাগোয়া যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মটোমাচি কারখানা পরিদর্শন করবেন তিনি।
পরে টয়োটা সুসো করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোশিমিতসু ইমাইয়ের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। এ ছাড়া নাগোয়ায় টয়োটা কমেমোরেটিভ মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজি পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তার।
সফর শেষে বুলেট ট্রেনে টোকিও ফিরে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।