ভাড়া বাকি পড়েছে কয়েক মাসের। ভাড়াটেও অনেকদিন ধরে ঘরে আসছেন না। শেষ পর্যন্ত ধৈর্য হারিয়ে ঘরের তালা ভাঙলেন বাড়িওয়ালা। কিন্তু ভেতরে ঢুকে যা দেখলেন, তা কল্পনাও করেননি তিনি। ঘরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কাগজ, বালতিতে টাকার বান্ডিল আর পাশে রাখা একটি প্রিন্টার।সম্প্রতি ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরে ঘটেছে এই ঘটনা। সেখানে একটি ভাড়াঘর থেকে বিপুল পরিমাণ জালনোট ও নোট তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তাদের ধারণা, ওই ঘরে বসেই ৫০০ রুপির জালনোট ছাপানো হতো।এ ঘটনায় পুষ্পক কৃষ্ণ ভান্ডারকর ওরফে বেনদানে নামে এক ব্যক্তিকে খুঁজছে পুলিশ। তিনি নাগপুরের ত্রিমূর্তি নগরের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি পলাতক।তালা ভেঙে ঘরে ঢুকতেই সন্দেহপুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় বছর আগে নাগপুরের খারবি এলাকায় একটি ঘর ভাড়া নেন পুষ্পক।
জানুয়ারিতে তার ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর কয়েক মাস ধরে তিনি ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেন।বাড়িওয়ালা রমেশ তাকে ঘর ছেড়ে দিতে বললে পুষ্পক ছুরি দেখিয়ে হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রমেশ ওয়াথোদা থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ তখন একটি অ-আমলযোগ্য অভিযোগ নথিভুক্ত করে।
এরপর দীর্ঘদিন ভাড়াটেকে ঘরে আসতে না দেখে শনিবার (২৪ অক্টোবর) হাতুড়ি দিয়ে তালা ভাঙেন বাড়িওয়ালা। ঘরে ঢুকে বালতির মধ্যে টাকার বান্ডিল এবং মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা কাগজ দেখতে পান। সেখানে একটি প্রিন্টারও ছিল।সন্দেহ হওয়ায় তিনি দ্রুত পুলিশকে খবর দেন।উদ্ধার ৩৭ লাখ রুপির জালনোটখবর পেয়ে ওয়াথোদা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ঘর থেকে ৫০০ রুপির জালনোটের বেশ কয়েকটি বান্ডিল উদ্ধার করা হয়।উদ্ধার হওয়া নোটের পরিমাণ নির্ধারণ করতে গণনার যন্ত্র আনা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায় ৩৭ লাখ রুপির জালনোট তৈরি করেছিলেন।
এ ছাড়া এক পাশে ছাপা হয়েছে, কিন্তু অন্য পাশে ছাপা অসম্পূর্ণ—এমন নোটও পাওয়া যায়। উদ্ধার করা জালনোট, আধা ছাপা নোট এবং অন্যান্য সরঞ্জামের মোট মূল্য প্রায় ৪৮ লাখ রুপি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া সব সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। সেখানে কীভাবে জালনোট তৈরি করা হতো, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
মুম্বাইয়ে পালানোর খবরতদন্তের সময় পুলিশ জানতে পারে, পুষ্পক মুম্বাইয়ে রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারের জন্য সেখানে পুলিশের একটি দল পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।এই জালনোট তৈরির সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।