পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিকিম কোম্পানির এক কর্মীকে অপহরণ করে মারধর, টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক সহকর্মী তারেক হাসান রোকনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত রোকনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান আসাদ এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রোববার সন্ধ্যায় পাকশী ইউনিয়নের দিয়াড় বাঘইল ক্লাব মোড়সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সারোয়ার জাহান এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেছেন।
সারোয়ার জাহান ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের মো. শাহজাহানের ছেলে। তিনি ঈশ্বরদীর দিয়াড় সাহাপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিকিম কোম্পানিতে কর্মরত।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে যাওয়ার পথে সারোয়ার ও তার চালক চান্নুর গতিরোধ করেন কয়েকজন ব্যক্তি। তারা মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক সারোয়ারকে তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে মারধর করে সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও ব্যাংকের এটিএম কার্ড ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ছিনিয়ে নেওয়া এটিএম কার্ডের পিন নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানালে সারোয়ারকে আবারও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জোর করে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ারও চেষ্টা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।
সারোয়ারের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় লোকজন আহত সারোয়ারকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
মোটরসাইকেলচালক চান্নু জানান, কয়েকজন ব্যক্তি হঠাৎ তাদের পথরোধ করে মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেন। এরপর জোর করে সারোয়ারকে তুলে নিয়ে যান।
ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান আসাদ সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, এ ঘটনায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার প্রধান অভিযুক্ত তারেক হাসান রোকনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।