সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সিরাজগঞ্জের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন অর রশিদকে বদলি করা হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) তাকে খাদ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা এস এম কায়ছার আলী। এ বিষয়ে উপসচিব মো. মাহাবুর রহমান শেখ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাওয়া গেছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বদলি হওয়া কর্মকর্তাকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে ২৭ অক্টোবর থেকে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য করা হবে।
গত ১৭ অক্টোবর দৈনিক কালবেলায় ‘প্রশ্নফাঁস চক্রে সরকারি চাকুরেরা, অপ্রতিরোধ্য চক্রের সদস্যরা’ শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে গড়ে ওঠা একটি প্রশ্নফাঁস চক্রের তথ্য উঠে আসে। সেখানে অন্তত ১১টি সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসে চক্রটির সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, সর্বশেষ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের সূত্র ধরে চক্রটির বিস্তৃত নেটওয়ার্কের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রশ্ন সংগ্রহ, তা বিভিন্ন ব্যক্তির হাতে পৌঁছে দেওয়া, পরীক্ষার্থী সংগ্রহ এবং গোপন স্থানে উত্তর মুখস্থ করানোর মতো কাজে চক্রটির সদস্যরা যুক্ত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে আসে। এ ঘটনায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। প্রশ্নফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে চিহ্নিত ১২ জনের তালিকায় সিরাজগঞ্জের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন অর রশিদের নামও ছিল।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর হারুন অর রশিদ আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা গেছে। প্রায় ১০ দিন পর গত ২৫ অক্টোবর তিনি কর্মস্থলে যান। তবে সেখানে মাত্র দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের প্রধান সহকারী কামরুল ইসলাম জানান, হারুন অর রশিদ সর্বশেষ ১৪ অক্টোবর অফিস করেছিলেন। এরপর দুই দিনের ছুটি নেন। ১০ দিন পর ২৫ অক্টোবর কর্মস্থলে ফিরে সকাল ১১টা পর্যন্ত অফিস করেন। পরে এলএসডি গোডাউন পরিদর্শনে যাওয়ার কথা বলে তিনি দপ্তর ত্যাগ করেন।
তবে প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে হারুন অর রশিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।