রক্তের অক্ষর :নারীর নিরাশ্রয়তা ও বিপন্নতার আখ্যান

রিজিয়া রহমানের ‘রক্তের অক্ষর’ (১৯৭৮) মুক্তিযুদ্ধোত্তর রাষ্ট্র ও সমাজে নারীর নিরাশ্রয়তা ও বিপন্নতার আখ্যান। এটি মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস হিসেবেও চিহ্নিত। মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিভীষিকাময় বাঙালি নারী নির্যাতনের মর্মন্তুদ চিত্র নিয়ে বেশকিছু উপন্যাস রচিত হয়েছে, কিন্তু ‘রক্তের অক্ষর’-এর পরিপ্রেক্ষিত সম্কূর্ণ আলাদা।  উপন্যাসটিতে মুক্তিযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিত তৈরি, সম্মুখযুদ্ধের সাফল্য চিত্রণের চেয়ে নিষিদ্ধপল্লির অনুপুঙ্খ চিত্র প্রাধান্য পেয়েছে। সেখানে বীভত্স কদাকার চিন্তার মানুষগুলোর চেয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের নিষ্ঠুরতার শিকার নারীহূদয়ের পরিচয় মুখ্য। তাদের জীবনের ক্ষুদ্র স্বার্থ, বিপরীতে হূদয়বান ও নিঃস্বার্থ কিন্তু অতীতের মধুর স্মৃতিলালনকারী নারীর পরিচয় ওই পল্লির একটি মধুর চিত্রের সন্ধান দেয়। লেখক কোনো বানানো কাহিনি লিখতে বসেননি। তিনি নির্মম বাস্তবতা, কদর্য সমাজচিত্রের রূপায়ণ ঘটিয়ে তুলে ধরেছেন মনুষ্যত্বের বিজয়গাথা।     

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের বাঙালি দোসররা ক্রমাগত নির্যাতন ও ভয়ংকর উপদ্রবে আমাদের পবিত্র যুদ্ধকে অভিশপ্ত করে তুলেছিল। যদিও এদেশের বীর সেনানীদের আত্মত্যাগে স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে সেই মর্মন্তুদ ঘটনার পরিসমাপ্তি ঘটে। তবু দুই লক্ষের বেশি নারীর জীবনকে বিপর্যস্ত করে দেয় যুদ্ধকালীন বিরূপ বাস্তবতা। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু সরকার নির্যাতিত নারীদের বীরাঙ্গনা উপাধি দিয়ে সামাজিকভাবে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছিল। বিবাহ এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রাষ্ট্রই করে দিয়েছিল। সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছিল ক্ষমতাবানরা। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। একদিকে নিজের পরিবার ও সমাজ ধর্ষিতা, নির্যাতিত নারীদের আশ্রয় দেয়নি, অন্যদিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন বিকৃত রুচির চাকরিদাতারা অপমানজনক প্রশ্ন করে দূরে ঠেলে দিয়েছে। ফলে নারীদের জীবন হয়েছে দুর্বিষহ, নেমে এসেছে অন্ধকার জগতের আহ্বান। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ইয়াসমীন এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়ে অবশেষে পতিতাপল্লিতে আশ্রয় নিয়ে গ্লানিকর জীবন বেছে নিয়েছে। ঔপন্যাসিক এই চরিত্রটির মধ্য দিয়ে বীরাঙ্গনা নারীর করুণ পরিণতি অঙ্কন করেছেন, তেমনি নিষিদ্ধ পল্লির বীভত্স জীবনের চিত্র তুলে ধরেছেন। মুক্তিযুদ্ধোত্তর সমাজের বাস্তবতা কেমন ছিল তার পরিচয়ও এই অখ্যানে বর্ণিত হয়েছে।

 

২.

উপন্যাসের শুরু হয়েছে ঢাকার পতিতাপল্লির চিত্র দিয়ে। মোট নয়টি পরিচ্ছেদে মূলত প্রাধান্য বিস্তার করেছে যৌনকর্মীদের জীবনচিত্রণ, ঘটেছে নির্যাতন, শোষণ আর শাসনের প্রতিভূ বিকৃত চরিত্রের মানুষের অবতারণা। যেমন সূচনাংশ এরকম—‘সকালটা এখানে অকেজো নেশাখোরের মতো ঝিম ধরে পড়ে আছে। পলেস্তারা খসা ইট বের করা দেওয়ালে সরু রোদের রেখা বিনা পয়সার খরিদ্দারের মতো বেহায়াভাবে লুটোপুটি খাচ্ছে। ময়লা উপচানো ড্রেনের ধারে কয়েকটা শালপাতার ঠোঙা আর ছেঁড়া তেল-চপচপে কাগজ নিয়ে গৃহবিবাদে রত একদল কাক। একটু দূরেই একটা ঘেয়ো কুকুর কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘুমোচ্ছে। আর কোনো শব্দ নেই। কুসুম উঠেছে সকালেই। সবার আগে এ পাড়ায় সে ওঠে। তখনো বকুল, জাহানআরা, সখিনা, মর্জিনা সবাই হাত-পা ছড়িয়ে বিশ্রীভাবে ঘুমিয়ে থাকে। গলির ভেতর মান্নানের দোকান ঝাপ খোলে না। শুধু রাস্তার ও-ধারে ডালপুরি আর গোলগোল্লার দোকানের ছোকরাটা সবে চুলোয় আঁচ ধরায়।’(পৃ ৭)।

এই উপন্যাসের কেন্দ্রে ইয়াসমীন এসেছে দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ থেকেই। শিক্ষিত এই নারীর একটি অতীত আছে। তা আমাদের পবিত্র মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে বিজড়িত। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভাইয়ের বন্ধু ও মুক্তিযোদ্ধা কামালকে আশ্রয় দেবার অপরাধে বাড়ির চাকর আলী ও পাকিস্তানিদের দোসরদের দ্বারা সংবাদ পেয়ে সেনারা পিতা-মাতা, ভাই-বোন সকলকে হত্যা করে ইয়াসমীনকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যায় এবং ছয় মাস ধর্ষিতা হতে থাকে সে। যুদ্ধশেষে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং একটি নারী পুনর্বাসন কেন্দ্রে তার আশ্রয় জোটে। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে নিজের চাচার কাছে উপস্থিত হলে আশ্রয় থেকে বঞ্চিত হয় সে। 

ইয়াসমীনের কাহিনি বর্ণনে রিজিয়া রহমান কিছু কৌশল অবলম্বন করেছেন। পতিতাপল্লির মধ্যে তাকে একজন স্বতন্ত্র নারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে তিনি তার অতীত ঘটনা বলেছেন ফ্ল্যাশব্যাকে। কখনো লেখক ও সাংবাদিক দেলোয়ারকে আগন্তুক হিসেবে পল্লিতে অনুপ্রবিষ্ট করিয়েছেন। তার মুখোমুখি করেছেন এই নারীকে। পুরো উপন্যাসে দেলোয়ার কাজ করেছে বিপ্লবের বার্তাবাহক হিসেবে। যদিও তা শক্তিশালী হয়ে ওঠেনি। তবে অন্ধকার, ঘুপচি গলিতে নিপীড়িত নারীসমাজের মধ্যে ক্রমান্বয়ে প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর জাগ্রত করেছেন লেখক। বরং নানান পরিস্থিতি, দালালদের অত্যাচার এবং অমানবিক আচরণ নারীদের একত্রিত করেছে, প্রতিরোধ গড়ে তোলার সাহস জুগিয়েছে।

ইয়াসমীনের বন্ধু তারিক বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে সুখে-দুঃখে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অথচ যুদ্ধোত্তর স্বদেশে সে তখন অপরের স্বামী। আবার পতিতাপল্লিতে যখন কামালের সঙ্গে দেখা হলো সে হতাশাগ্রস্ত তরুণ, আরেকজনের পতি। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রশ্নে তরুণসমাজ সাহসিকতার পরিচয় দিলেও স্বাধীন দেশে তারা বিপথগামী, নীতিভ্রষ্ট হয়েছে তারই অন্যতম প্রতিনিধি কামাল। শহীদ পরিবারের সন্তান আর বীরাঙ্গনা হয়ে নিজের চাচার কাছে উপস্থিত হয়েছিল ইয়াসমীন। চাচা তাকে আশ্রয় দিতে পারেনি নিজের মেয়েদের বিয়ে হবে না ভেবে। চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা বললেও নিজের আত্মীয় বলে পরিচয় দিতে কুণ্ঠিত হয় চাচা। ইয়াসমীনের আশ্রয় পুনর্বাসন কেন্দ্র হলেও সে চেষ্টা করে একটা চাকরি পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে। কিন্তু চাকরির ইন্টারভিউ বোর্ডে সে বিব্রত হয় বীরাঙ্গনা প্রসঙ্গে। বোর্ডের সদস্যরা তার পরিস্থিতিকে হয় বেশি সহানুভূতির সঙ্গে দেখে নতুবা প্রশ্ন করে, উত্সুক হয়ে শরীর নিরীক্ষা করতে থাকে। ফলে উচ্চশিক্ষিত এই নারী চরমভাবে অপমানিত হয়। বীরাঙ্গনা পরিচয় মুখ্য হয়ে ওঠায় ক্ষুব্ধ ইয়াসমীন বলে—‘আমার সম্কর্কে আপনাদের আগ্রহের চেয়ে কৌতূহল বেশি। কারণ আমি সরকারের দেয়া বীরাঙ্গনা খেতাব নিয়ে এসেছি। আপনাদের দৃষ্টি, আপনাদের ভঙ্গি বলে দিচ্ছে যে, আমি সমাজ ছাড়া মেয়ে। সরকার বোধ হয় বারাঙ্গনা বলতে ভুলে বীরাঙ্গনা খেতাব দিয়ে ফেলেছে। ... পাকিস্তানি সৈন্যরা আমার দেহের ক্ষতি করেছে। আর আমার মনের ক্ষতি করেছেন আপনারা। আপনাদের মতো মানুষেরা যারা কিছু না হারিয়েও স্বাধীনতার ফল ভোগ করছেন।’

ঔপন্যাসিক ইয়াসমীনের এই উক্তির মধ্যে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধোত্তর সময়ের চিত্র অঙ্কন করেছেন। তত্কালীন সমাজের প্রতি কটাক্ষ করে ইয়াসমীন যে কথা বলেছে তা যুগপত্ তীব্র ঘৃণা ও বিদ্রূপে শাণিত। রিজিয়া রহমান এ উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী বাংলাদেশের সমাজমানসের সংকট তুলে ধরেছেন। সেসময় মধ্যবিত্তের মনোজগত্ ছিল বহুমুখী জটিলতার সমষ্টি। ব্যক্তিগত উপভোগ প্রাধান্য পেয়েছিল। মানুষ হয়ে উঠেছিল আত্মকেন্দ্রিক। অন্যদিকে ধর্ষিতা ও লাঞ্ছিত নারীর প্রতি বিকৃত রুচির পুরুষজাতির দৃষ্টিভঙ্গির বাস্তব প্রকাশ ছিল অকপট। বীরাঙ্গনা খেতাব দিয়ে সমাজে নারীকে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা সেসময় যে ব্যর্থ হয়েছিল তারই যথার্থ চরিত্রায়ণ ইয়াসমীন। 

আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার সময় ইয়াসমীনের সঙ্গে একজনের বিয়ে হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার পিছু নেয়। সেই স্বামী পিতৃপুরুষের বেদখলকৃত বাড়ি দখল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। উপরন্তু প্রহসনের বিয়েতে দাম্কত্যজীবন অতিষ্ট হয়ে ওঠে। স্বামী তাকে বাধ্য করে পরপুরুষের সঙ্গে যৌনকর্মে লিপ্ত হতে। ফলে তার দেহ পুনরায় স্বাধীন দেশের খল-প্রতারকদের দ্বারা শোষণ হতে থাকে। প্রকৃতপক্ষে তার শেষ পরিণতির জন্য সমাজ ও রাষ্ট্র দায়ী থাকলেও নিজের সিদ্ধান্ত নিজেকে নিতে হয়—‘যুদ্ধ যদি আমাকে বেশ্যাই বানাল, তবে তার ফলভোগ ওই ক্রীম খাওয়া লোকদের করতে দেব না। আমি বেশ্যা। আমি বেশ্যা হয়েই যাব।’ কিন্তু পতিতাপল্লিতে অসহায় গোলাপিকে বাঁচাতে গিয়ে দালাল ও নারী ব্যবসায়ী হীরুর ছুরিকাঘাতে খুন হয় ইয়াসমীন। পুরুষশাসিত সমাজে নারী সব জায়গায় বিপন্ন, অসহায়, তার পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই এদেশের সমাজে। স্বপ্ন দেখা ও স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়ে এই উপন্যাসের সমাপ্তি ঘটে।

 

৩.

‘রক্তের অক্ষর’ যুদ্ধকালীন বাস্তবতায় নারী নিগৃহীত। মুক্তিযুদ্ধে নারীনির্যাতন এবং যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের সমাজে সেই নারীর মর্যাদার লড়াই ও শেষে তার করুণ পরিণতির চিত্র অঙ্কন করে ঔপন্যাসিক রিজিয়া রহমান আমাদের চেতনাকে ধাক্কা দিয়ে জাগাতে চেয়েছেন। বীরাঙ্গনা খেতাবের সেই নারীদের সামাজিক প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। বরং পুনর্বাসন ও সম্মান নিয়ে চাকরি করে বেঁচে থাকার সংগ্রামে অবতীর্ণ নারী পুনরায় নির্যাতনের শিকার হয়েছে। রাষ্ট্র ও সমাজের দায়ভার পালনে ব্যর্থতার পরিচয় লিপিবদ্ধ করেছেন লেখক।  

এ উপন্যাসে হানাদার পাকিস্তানি সৈন্যদের আক্রমণ ও নৃশংসতার চিত্র কেবল ইয়াসমীনের ঘটনা বর্ণনায় উন্মোচিত হয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণের প্রসঙ্গ উপস্থাপিত হয়েছে কামালের অস্ত্রসহ আত্মগোপন ও পলায়নের মধ্য দিয়ে। বরং এ উপন্যাসে আরেক যুদ্ধ ও প্রতিরোধচিত্র তুলে ধরেছেন ঔপন্যাসিক। গোলাপিপট্টির যে পরিবেশ-পরিস্থিতি তিনি বিভিন্ন চরিত্রের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করেছেন তার গুরুত্ব বেশি। লেখক যেন কল্পনায় নিজস্ব পঠন অভিজ্ঞতা থেকে কাহিনি বর্ণনা করেছেন।

‘রক্তের অক্ষর’ উপন্যাসে যে পতিতাপল্লির চিত্র অঙ্কিত হয়েছে তা বাংলাদেশের সাহিত্যে অভিনব এবং প্রথম। যদিও এর আগে জগদীশ গুপ্তের ‘লঘু-গুরু’ উপন্যাসে বেশ্যাজীবনের কাহিনি সবিস্তারে রূপায়িত হয়। কিন্তু সেই উপন্যাস থেকে এটি আলাদা, একটি পৃথক বক্তব্যের জন্য। বিশেষত নির্যাতিত নারীদের ভেতর রিজিয়া রহমান প্রতিবাদের চেতনা জাগ্রত করেছেন। অবশ্য সেই প্রতিবাদ রক্তের অক্ষরে লিখিত হয়েছে। ইয়াসমীনের হত্যাকাণ্ড পরবর্তীসময়ে ওই পতিতাপল্লিতে অন্যান্য নারীদের মধ্যে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলেছিল নিশ্চয়। যদিও সেই পরিচয় দেননি ঔপন্যাসিক। কিন্তু ইঙ্গিত রেখে গেছেন তিনি—

‘পিছিয়ে গেল মেয়েরা। মার খাওয়া পরাজিত পশুর মতো বেদনাহত চোখে ইয়াসমীনের মৃতদেহের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। রক্তমাখা কাগজটা ওদের সামনে। ওরা শুধু কাগজের এক পিঠের রক্ত দেখল। ওরা জানল না কাগজের আরেক পিঠে লেখা সর্বকালীন সত্যের সেই বিখ্যাত বিদগ্ধ উক্তি : ‘ম্যান ইজ বরন ফ্রি, বাট এভরি-হোয়্যার ইজ ইন চেইন।’

নিস্তব্ধ বজ্রাহত বাড়িটায় তখন একটি শিশুর স্বাধীন প্রতিবাদের কান্না বেজে উঠল। ফুলমতীর বাচ্চা কাঁদছে প্রবল চিত্কারে।’(পৃ ১১২)। 

এভাবেই ইয়াসমীনের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদে অংশগ্রহণে ব্যর্থ হলেও পতিতাপল্লির সাধারণ নারীর মধ্যে চেতনার বীজ ছড়িয়ে দিয়েছেন লেখক। লেখক আরো দেখিয়েছেন, মধ্যবিত্তশ্রেণি অধিকতর রাজনীতিমনস্ক হলেও মুক্তিযুদ্ধের পর তাদের আচরণ পাল্টে গিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে গৌরবময় ভূমিকা পালন করলেও যুদ্ধোত্তর সমাজে তারা প্রতিবাদহীন, নির্যাতিতের পাশে দাঁড়াতে কুণ্ঠিত।