পিতৃপরিচয় গোপন করতে বিক্রি করে দেওয়া সেই নবজাতক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নবজাতক বিক্রির অভিযোগে অভিযুক্ত যুবকের মা, জেঠা, এক নার্স ও শিশুটিকে কিনে নেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার ভোরে থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যৌথ অভিযানে নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী ও পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ হোছাইন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আবির হোসেনের মা জোবেদা আক্তার সানজিদা, জেঠা নজরুল ইসলাম মনির, চৌদ্দগ্রাম বাজারের প্রাইম হাসপাতালের নার্স স্বপ্না বেগম এবং নবজাতককে কেনার অভিযোগে হিঙ্গুলা গ্রামের রিপন মিয়া।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত আবির হোসেন কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকোট গ্রামের আমির হোসেন ওরফে লাকির ছেলে। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পাশের বাড়ির এক তরুণীর সঙ্গে আবিরের শারীরিক সম্পর্কের জেরে ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। গত ২৩ অক্টোবর চৌদ্দগ্রাম বাজারের প্রাইম হাসপাতালে তিনি একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। অভিযোগ রয়েছে, সন্তান জন্মের পর নবজাতকের পিতৃপরিচয় গোপন করতে আবির ও তার পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় শিশুটিকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে রিপন মিয়ার কাছে বিক্রি করা হয়।

গণমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশের পর রোববার দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে আবির, তার মা জোবেদা আক্তার সানজিদা, জেঠা নজরুল ইসলাম মনির ও সালিশদার মোস্তফা মোল্লার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার এজাহারে তরুণী অভিযোগ করেন, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর তার মা ও নানি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় থাকাকালে আবির তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। পরে একই আশ্বাসে একাধিকবার সম্পর্কের কারণে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি আবিরের পরিবারকে জানানো হলে তারা এবং সালিশে যুক্ত ব্যক্তিরা নানা টালবাহানা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২৩ অক্টোবর সন্তান জন্মের পর তার পিতৃপরিচয় আড়াল করতে আবির, তার পরিবারের সদস্য, সালিশদার, হাসপাতালের কর্মী ও পরিচিত ব্যক্তিরা নবজাতককে পাচারের উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখেন। পরে পুলিশের সহায়তায় শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের হেফাজতে দেওয়া হয়।

ওসি মো. আরিফ হোছাইন জানান, নবজাতক বিক্রির ঘটনায় মানবপাচার আইনে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুর রহমান টুকু বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছেন। এতে আবিরকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখসহ মোট ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আবিরসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।