একটি ছোট প্রয়োজনও অনেক সময় পুরো দিনের পরিকল্পনা বদলে দেয়। সকালে বের হওয়ার আগে দেখা গেল প্রয়োজনীয় প্রসাধনী শেষ। দুপুরে মনে পড়ল সহকর্মীর জন্মদিন, ছোট একটি উপহার দরকার। বাসায় ফিরে বুঝলেন, পরদিন লাগবে এমন একটি জিনিস আজই কিনে রাখা উচিত। প্রয়োজনগুলো বড় নয়, কিন্তু প্রতিটির জন্য আলাদা করে দোকানে যাওয়া মানে সময় বের করা, যানজট সামলানো এবং দিনের অন্য কাজ সরিয়ে জায়গা তৈরি করা।
এখানেই ফুডি শপের ভাবনাটি খাবার অর্ডারের পরিচিত অভ্যাস থেকে একটু বাইরে যায়। ফুডির একই অ্যাপে রেস্তোরাঁর খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনের পাশাপাশি নির্বাচিত দোকান থেকে প্রসাধনী, ওষুধ, ফ্যাশন সামগ্রী, পোষা প্রাণীর খাবার, ইলেকট্রনিকস পণ্যসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে একজন ব্যবহারকারীর কাছে ফুডি শুধু সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার কিংবা রাতের আহারের জন্য ব্যবহৃত একটি অ্যাপ হয়ে না থেকে দৈনন্দিন ছোট কেনাকাটারও একটি বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমানে ঢাকা, খুলনা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন শহরে ফুডি শপের সঙ্গে ১,০০০টির বেশি দোকান যুক্ত রয়েছে। সামনে আরও নতুন শহর ও এলাকায় এই সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থাৎ খাবারের বাইরে কেনাকাটাকে আলাদা কোনো পরীক্ষামূলক সেবা হিসেবে নয়, বরং ফুডির বড় সেবাব্যবস্থার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
একটি জিনিসের জন্য আলাদা যাত্রা কেন
অনলাইন কেনাকাটা নিয়ে কথা উঠলেই বড় অর্ডার, মাসিক বাজার কিংবা দীর্ঘ তালিকার কথা মনে পড়ে। বাস্তবে সুবিধার বড় অংশ তৈরি হয় ঠিক উল্টো জায়গায়, যখন দরকার মাত্র একটি বা দুটি জিনিস। ধরা যাক, সন্ধ্যায় বাসায় অতিথি আসবেন। প্রয়োজনীয় একটি ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্য নেই। অথবা কারও জন্য ছোট একটি উপহার নিতে হবে। আবার হয়তো বাসার পোষা প্রাণীর খাবার শেষ হয়ে গেছে কিংবা ফোনের জন্য জরুরি কোনো ইলেকট্রনিকস সামগ্রী দরকার।
প্রতিটি প্রয়োজনের জন্য আলাদা করে দোকানে যাওয়া সবসময় বাস্তবসম্মত নয়। ফুডি শপের সবচেয়ে ব্যবহারিক জায়গাটি এখানেই। এটি মানুষের কেনাকাটার অভ্যাস পুরো বদলে দেওয়ার দাবি করে না। বরং যেসব প্রয়োজনের জন্য আগে আলাদা যাত্রা করতে হতো, সেগুলোর কিছু অংশকে পরিচিত একটি অ্যাপের মধ্যে আনার চেষ্টা করে।
একই অ্যাপ, ভিন্ন দিনের ভিন্ন প্রয়োজন
একজন মানুষ প্রতিদিন একই কারণে কোনো অ্যাপ খোলেন না। সোমবার সকালের নাশতা লাগতে পারে। মঙ্গলবার দুপুরের খাবার। বুধবার বাসার বাজারের কিছু জিনিস। শুক্রবার কারও জন্য ফুল। অন্যদিন প্রয়োজন হতে পারে প্রসাধনী, ওষুধ, ফ্যাশন সামগ্রী কিংবা পোষা প্রাণীর খাবার। একই জায়গায় এই ভিন্ন প্রয়োজনের কিছু অংশ পাওয়া গেলে ব্যবহারকারীর জন্য সুবিধাটি সহজে বোঝা যায়।
নতুন করে আরেকটি অ্যাপে নিবন্ধন করা, ঠিকানা যোগ করা এবং ব্যবহারের ধরন শেখার প্রয়োজন কমে আসে। ফুডির ক্ষেত্রে এই পরিচিতির মূল্য আছে। যারা ইতিমধ্যে খাবার অর্ডার করেন, তাদের কাছে শপ বিভাগটি সম্পূর্ণ নতুন কোনো জগত নয়। একই অ্যাপের ভেতরে অন্য একটি প্রয়োজনের দরজা।
বর্তমানে ফুডি শপে বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতিও এই পরিসরকে বড় করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রেশ মার্ট, পেট জোন, মেট্রো মার্ট, বেঙ্গল মিট, মীনা বাজার, আগোরা, লোটো, মুমুসো, স্টারটেক, লিরা ইমপোর্ট, কোরিয়ান মার্ট এবং কাইন্ড ফার্মার মতো প্রতিষ্ঠান। এই তালিকা থেকেই বোঝা যায়, ফুডি শপ শুধু একটি নির্দিষ্ট ধরনের কেনাকাটায় সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না। বাজার, মাংস, ফ্যাশন, প্রসাধনী, ইলেকট্রনিকস, ওষুধ কিংবা বিশেষায়িত পণ্য, বিভিন্ন প্রয়োজনকে একই জায়গায় আনার চেষ্টা করছে।
তবে সব পণ্য সব এলাকায় পাওয়া যাবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। দোকান, পণ্যের মজুত এবং সরবরাহের সুযোগ এলাকাভেদে বদলাতে পারে। তাই ব্যবহারকারীর জন্য নিজের ঠিকানা অনুযায়ী অ্যাপে কী পাওয়া যাচ্ছে, সেটিই সবচেয়ে বাস্তব তথ্য।
পছন্দের চেয়ে প্রাপ্যতা কখনো বেশি গুরুত্বপূর্ণ
দোকানে গিয়ে কেনাকাটার একটি সুবিধা হলো চোখের সামনে যা আছে, তা সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায়। অনলাইনে সেই কাজটি করে প্রাপ্যতার তথ্য। একটি পণ্য খুব পছন্দ হলো, কিন্তু সেটি যদি নিজের এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব না হয়, তাহলে সেই পছন্দের ব্যবহারিক মূল্য কমে যায়। ফলে অনলাইন কেনাকাটায় ভালো অভিজ্ঞতার শুরু হয় সঠিক প্রাপ্যতা থেকে।
ফুডির অবস্থানভিত্তিক অর্ডার ব্যবস্থায় ব্যবহারকারী নিজের ঠিকানা দিয়ে কাছাকাছি পাওয়া যায় এমন দোকান ও সেবা দেখতে পারেন। এই পদ্ধতি ছোট কেনাকাটার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে কাজে আসে, কারণ ব্যবহারকারী সাধারণত দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চান। আজ দরকার এমন জিনিসের জন্য আগামী সপ্তাহের পরিকল্পনা কেউ করেন না। তাই কাছাকাছি কী পাওয়া যাচ্ছে, কত সহজে অর্ডার করা যাচ্ছে এবং অর্ডারের অবস্থা জানা যাচ্ছে কি না, এই প্রশ্নগুলোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
দোকানের বৈচিত্র্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
অনলাইন কেনাকাটার সুবিধা শুধু একটি পণ্য দ্রুত পাওয়া নয়। একই সঙ্গে ভিন্ন ধরনের দোকান এক জায়গায় পাওয়া গেলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। ধরা যাক, একজন ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বাজারের কিছু পণ্য। তিনি মীনা বাজার, আগোরা বা মেট্রো মার্টের মতো প্রতিষ্ঠানের পণ্য দেখতে পারেন। মাংসের প্রয়োজন হলে বেঙ্গল মিটের মতো প্রতিষ্ঠানের পণ্য খুঁজতে পারেন। পোষা প্রাণীর প্রয়োজন হলে পেট জোন। ইলেকট্রনিকস পণ্যের ক্ষেত্রে স্টারটেক। ওষুধ কিংবা স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট প্রয়োজনের ক্ষেত্রে কাইন্ড ফার্মার মতো দোকানের উপস্থিতি আলাদা সুবিধা তৈরি করে।
অর্থাৎ সব প্রয়োজনের জন্য একই ধরনের দোকান নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী দোকানের ধরন বদলাচ্ছে। ফুডি শপের সম্ভাবনাটিও এখানেই। একটি বড় পণ্যের তালিকা দেখানোর চেয়ে সঠিক সময়ে সঠিক ধরনের দোকান সামনে আনা ব্যবহারকারীর জন্য বেশি কার্যকর।
কেনাকাটার সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক
অনলাইনে খাবার অর্ডারে একটি ভুল হলে পরের বেলার খাবার দিয়ে পরিস্থিতি সামলানো যায়। কিন্তু ব্যক্তিগত ব্যবহার, ওষুধ, ইলেকট্রনিকস কিংবা উপহারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো পণ্য অর্ডার করলে প্রত্যাশা একটু অন্যরকম। পণ্যটি সঠিক কি না, ঠিকানাটি ঠিক আছে কি না, অর্ডারটি কোথায় আছে এবং কোনো সমস্যা হলে কাকে জানানো যাবে, এই প্রশ্নগুলো তখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এই জায়গায় সরাসরি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। ফুডির গ্রাহক সহায়তা নম্বর ১৬২৯৫। প্রয়োজনে ব্যবহারকারী এই নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। অ্যাপের ভেতরেও সহায়তা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মানুষ অনলাইনে কেনাকাটা করেন সময় বাঁচাতে। কোনো সমস্যা হলে সমাধান খুঁজতেই যদি আবার অনেক সময় চলে যায়, তাহলে সেই সুবিধার মূল্য কমে যায়। তাই অর্ডারের পর সহায়তার পথটি পরিষ্কার থাকা পুরো অভিজ্ঞতার অংশ।
খাবারের বাইরে ফুডির বড় হওয়ার অর্থ
ফুডি নামটি এখনো অনেকের কাছে প্রথমে খাবারের কথাই মনে করায়। সেটি স্বাভাবিক। একটি খাবার সরবরাহকারী প্ল্যাটফর্মের পরিচিতি তৈরি হয় ক্ষুধার মুহূর্ত থেকেই। কিন্তু একটি প্রযুক্তিনির্ভর সেবার বড় হওয়ার আরেকটি পথ হলো একই ব্যবহারকারীর আরও কিছু দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান করা। ফুডি শপ সেই দিকটি দেখায়।
এখানে লক্ষ্য শুধু বেশি ধরনের পণ্য দেখানো নয়। বরং খাবার, বাজার, ফুল, ওষুধ, ফ্যাশন, প্রসাধনী, পোষা প্রাণীর প্রয়োজন এবং নির্বাচিত কেনাকাটাকে একই পরিচিত ব্যবস্থার মধ্যে রাখা। একজন ব্যবহারকারী যদি সকালে নাশতার জন্য ফুডি খোলেন, দুপুরে খাবার অর্ডার করেন, আর সন্ধ্যায় অন্য একটি প্রয়োজনেও একই জায়গায় ফিরতে পারেন, তাহলে অ্যাপটির ব্যবহার স্বাভাবিকভাবেই বদলে যায়।
এই ফিরে আসাটিই একটি অ্যাপকে একক কাজের সেবা থেকে দৈনন্দিন ব্যবহারের অংশে নিয়ে যায়। বর্তমানে ছয়টির বেশি বড় শহরে ১,০০০টির বেশি দোকানের উপস্থিতি সেই পরিসরকে আরও বড় করছে। আর সামনে আরও সম্প্রসারণ হলে স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায় এমন দোকানের সংখ্যাও বাড়তে পারে।
অনলাইন কেনাকাটায় সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি হওয়া উচিত সহজতা
কেনাকাটার গল্পে বড় বড় শব্দ ব্যবহার করা সহজ। অসংখ্য পণ্য, বিশাল সংগ্রহ, সবকিছু এক জায়গায়। কিন্তু একজন সাধারণ ব্যবহারকারীর দিনের হিসাব অনেক বেশি সরল। তিনি যা চান তা হলো, দরকারের সময় জিনিসটি খুঁজে পাওয়া, অর্ডার করতে বেশি সময় না লাগা এবং প্রয়োজন হলে সহায়তা পাওয়া।
ফুডি শপকে বিচার করার সবচেয়ে ভালো জায়গাটিও সম্ভবত এখানেই। এটি কি একটি ছোট প্রয়োজনকে ছোটই রাখতে পারছে, নাকি সেই প্রয়োজনকে আরেকটি বড় কাজ বানিয়ে দিচ্ছে। যদি একটি পণ্যের জন্য দোকানে যাওয়ার যাত্রা বাঁচে, যদি কাজের ফাঁকে কয়েক মিনিটেই অর্ডার করা যায়, যদি পরিচিত অ্যাপেই প্রয়োজনটি মেটে, তাহলে ব্যবহারকারীর কাছে সুবিধাটি বাস্তব।
ফুডি শপের সম্ভাবনা তাই শুধু খাবারের বাইরে যাওয়ার মধ্যে নয়। সম্ভাবনা হলো দৈনন্দিন জীবনের এমন ছোট কাজগুলোর পাশে থাকা, যেগুলো আলাদা করে খুব বড় মনে হয় না, কিন্তু একসঙ্গে দিনের অনেকটা সময় নিয়ে নেয়।
স্থানীয় দোকানের জন্যও নতুন জানালা
এই ব্যবস্থার আরেকটি দিক আছে। অনলাইন কেনাকাটার সুবিধা শুধু ক্রেতার সময় বাঁচায় না। নির্বাচিত স্থানীয় দোকানের জন্যও নতুন গ্রাহকের সামনে আসার সুযোগ তৈরি করে। একটি দোকান হয়তো নিজের এলাকার নিয়মিত ক্রেতাদের কাছে পরিচিত, কিন্তু পাশের এলাকার মানুষ সেটি চেনেন না। ডিজিটাল তালিকায় জায়গা পেলে সেই দোকান নতুন মানুষের নজরে আসতে পারে।
বর্তমানে ঢাকা, খুলনা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন শহরে ফুডি শপের উপস্থিতি থাকায় এই সুযোগটি শুধু রাজধানীকেন্দ্রিকও থাকছে না। তবে অনলাইন উপস্থিতি শুধু দৃশ্যমানতা দেয়। বিশ্বাস তৈরি হয় তখনই, যখন পর্দায় যে প্রতিশ্রুতি দেখা যায়, বাস্তব অর্ডারেও সেটি মেলে।
পণ্যের মান, মজুতের সঠিক তথ্য, অর্ডারের স্বচ্ছতা এবং সময়মতো সরবরাহ, সবকিছুই সেই বিশ্বাসের অংশ। ফুডি শপের দীর্ঘমেয়াদি মূল্যও তাই শুধু পণ্যের সংখ্যা কিংবা দোকানের সংখ্যায় নয়, নির্ভরযোগ্য কেনাকাটার অভিজ্ঞতায়। একটি অ্যাপ তখনই মানুষের অভ্যাসে জায়গা করে নেয়, যখন সেটি শুধু বড় উপলক্ষ নয়, ছোট ঝামেলাগুলোও কমাতে পারে। ফুডি শপ সেই জায়গায় কতটা স্বস্তি তৈরি করতে পারে, তার উত্তর শেষ পর্যন্ত ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাই দেবে।