পছন্দের মেয়ের সঙ্গে বিয়েতে বাধায় বাবাকে হত্যা: হাইকোর্টে খালাস মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছেলে

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করতে বাধা দেওয়ায় বাবা ইব্রাহিম খলিল উল্লাহকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছেলে শরীয়ত উল্লাহকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে এ রায় দেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোস্তফা সারওয়ার এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমিন সিদ্দিকী, মীর মনিরুজ্জামান, সোলাইমান হাওলাদার ও মিজানুর রহমান। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম ফজলুল হক খান।

এর আগে, ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় শরীয়ত উল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নুরুল আমিন বিপ্লব।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, পছন্দের পাত্রীকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় ২০০৫ সালের ১৩ মার্চ মধ্যরাতে গফরগাঁও উপজেলার ডুবাইল গ্রামের নিজ বাড়িতে বাবা ইব্রাহিম খলিল উল্লাহকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন শরীয়ত উল্লাহ। এ সময় ছেলেকে বাধা দিতে গেলে মা নাসিমা খাতুনকেও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় বাবা-মাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ মার্চ মারা যান ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ।

এ ঘটনায় পরদিন, ১৫ মার্চ, নিহতের আরেক ছেলে সাদিকুল্লাহ গফরগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে নিম্ন আদালতে শরীয়ত উল্লাহর মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। তবে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে মঙ্গলবার তাকে খালাস দিলেন হাইকোর্ট।