নওগাঁর বদলগাছীতে ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক ব্যক্তিকে নির্জন এলাকায় ডেকে নিয়ে মারধর করে মোটরসাইকেল, মুঠোফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার ছয় ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এর আগে সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের হাটশাপিলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন হাটশাপিলা এলাকার মিঠনের ছেলে মো. সিয়াম (১৮) এবং জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. রহিত (১৮)। ছিনতাইয়ের শিকার হুমায়ন কবির উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের পরমান্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুকের মাধ্যমে সিয়াম ও রহিতের সঙ্গে পরিচয় হয় হুমায়ন কবিরের। সোমবার পাহাড়পুরে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে চারা গাছ কেনার জন্য তিনি মথুরাপুরের জাবারীপুর হাটে যান। এ সময় সিয়াম ও রহিত তাকে বিভিন্ন অজুহাতে হাটশাপিলা এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে তাদের আরও কয়েকজন সহযোগী জড়ো হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে হুমায়নকে রাস্তার পাশে নিয়ে মারধর করা হয়। পরে তার মোটরসাইকেল, মুঠোফোন ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় বদলগাছী থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। এরপর অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।
হুমায়ন কবির বলেন, কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে চারা গাছ কেনার জন্য জাবারীপুর বাজারে গেলে সিয়াম ও রহিত আমার পিছু নেন। পরে আমাকে বাজারের পাশে নিয়ে মারধর করে মোটরসাইকেল কেড়ে নেওয়া হয়। এ সময় আমার কাছে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। হামলাকারীর সংখ্যা ছয় থেকে সাতজন ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
বদলগাছী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, অভিযোগ পাওয়ার ছয় ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের ছবি ও কণ্ঠ ব্যবহার করে ছেলেদের আকৃষ্ট করার এবং সুযোগ বুঝে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার জন্য সবাইকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।