দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বিদেশি একটি রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে সম্পূর্ণ ‘অসত্য, কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির রাজনৈতিক মর্যাদা ও সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই পরিকল্পিতভাবে এই বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই জোরালো প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্পষ্ট করেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখেই দলটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে। সম্প্রতি দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন বলে কিছু গণমাধ্যমে যে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা ও জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
গোলাম পরওয়ারকে জড়িয়ে যারা এ ধরনের অসত্য তথ্য প্রকাশ করেছেন এবং তা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন, তাদের প্রতি সেই অভিযোগের পক্ষে অকাট্য তথ্য-প্রমাণ জাতির সামনে পেশ করার আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা। তিনি মন্তব্য করেন, মনগড়া ও ভিত্তিহীন অপবাদ দিয়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বকে বিতর্কিত করার কোনো অপচেষ্টাই সফল হবে না।
বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো সংবেদনশীল বিষয়ে তথ্যের সত্যতা ও যথার্থতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করা গণমাধ্যমের পেশাগত দায়িত্ব। একই সঙ্গে এমন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা প্রচারণা ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে এবং সতর্ক থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগে সোমবার ও মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ তিন নেতার বিরুদ্ধে ভারতীয় এক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে রাজধানীর বারিধারায় গোপন বৈঠক করার অভিযোগ তোলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াত নেতাদের বহনকারী গাড়িটি ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে আসছিল। এমনকি এ বিষয়ে গোলাম পরওয়ারকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার কথাও বলেন তিনি। তবে ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছিল এবং গাড়ির ভেতরে কারা অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি রাশেদ খাঁন। সেই অভিযোগ ও গণমাধ্যমের খবরের পরিপ্রেক্ষিতেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই কড়া বিবৃতি দিল জামায়াতে ইসলামী।