প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অজুহাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আহত বীরদের সুচিকিৎসায় যেন কোনো ধরনের গাফিলতি বা অবহেলা না হয়, সেদিকে সরকারের সর্বোচ্চ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, হাজারো মানুষের রক্তদান ও পঙ্গুত্ব বরণের ওপর দাঁড়িয়েই আজকের সরকার ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; তাই রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে আহতদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বেড়াইদেরচালা এলাকায় জুলাই আন্দোলনে পঙ্গুত্ববরণকারী শিক্ষার্থী মো. বাপ্পিকে তাঁর নিজ বাড়িতে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আহত বাপ্পির শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পর নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ত্যাগের ফসল। দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরা, জাতীয় নির্বাচন আয়োজন এবং একটি সরকারের ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব হয়েছে হাজারো মানুষের জীবনদান, তাঁদের অঙ্গহানি ও চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণের চরম মূল্যে। দলমত কিংবা রাজনীতিসহ সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে এই আহত ভাইবোনদের প্রতি সরকারের পূর্ণ দৃষ্টি থাকা আবশ্যক। কোনো প্রশাসনিক বা আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে যেন তাঁদের চিকিৎসাসেবায় বিন্দুমাত্র শৈথিল্য না আসে।’
এনসিপির আহ্বায়ক আরও উল্লেখ করেন, জুলাই আন্দোলনে হতাহতদের সার্বিক পুনর্বাসন, এককালীন ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তা, তাঁদের পরিবারের ভরণপোষণ নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিকভাবে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেওয়া সময়ের দাবি। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে এই বিশাল দায়িত্ব এককভাবে পালন করা কঠিন, যা সরকার ও রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে অনেক সহজে ও বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়ন সম্ভব। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ-সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল; নির্বাচিত বর্তমান সরকারকে কেবল সেই কার্যক্রমগুলো আন্তরিকতার সঙ্গে তদারকি ও কার্যকর করতে হবে।
আন্দোলনকারীদের জাতীয় বীর হিসেবে আখ্যায়িত করে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাঁরা এই দেশের প্রকৃত বীর, তাঁদের সীমাহীন সাহসিকতা ও বীরত্বের কারণেই বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার ফ্যাসিবাদের নাগপাশ থেকে স্বাধীন হয়েছে। আজ আমরা যা কিছু পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছি বা স্বাধীনভাবে কথা বলছি, তা তাঁদের আত্মত্যাগের কারণেই সম্ভব হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই তাঁদের এই অবদান ভুলে যাওয়া চলবে না। হয়তো তাঁদের অনেকেই আর স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনে ফিরে যেতে পারবেন না; কিন্তু রাষ্ট্র ও সমাজ হিসেবে আজীবন তাঁদের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক ঋণ।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, ঢাকা বিভাগীয় উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল্লাহ হায়দার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক নাবিলা তাসনিদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আলী নাসের খান এবং গাজীপুর জেলা আহ্বায়ক আবু রায়হান মেজবাহসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।