কে হচ্ছেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী

ইসরায়েলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনের বুথফেরত সমীক্ষায় কোনো স্পষ্ট বিজয়ী দেখা যাচ্ছে না, যেখানে অভিজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা সাবেক সেনাপ্রধান গ্যাডি আইজেনকোট কেউই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে নেই।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলি দুটি সম্প্রচারমাধ্যমের পূর্বাভাস অনুযায়ী আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি এবং তার পরিবর্তন জোটের অন্যান্য তিনটি দল ১২০ আসনের নেসেটে ৫১টি আসন পাবে, যা নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তার অতি-ডানপন্থী ও অর্থোডক্স মিত্রদের সমান। তবে তৃতীয় একটি সম্প্রচারমাধ্যমের সমীক্ষায় নেতানিয়াহুর জোটকে তিনটি আসনে এগিয়ে রাখা হয়েছে।

ভোট গণনায় যৌথভাবে রেকর্ড ১৮ থেকে ১৯টি আসন পেতে যাওয়া দুটি আরব দল মূল ক্ষমতার চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে। সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার ভোটাভুটির হার ছিল ৭৭.৭ শতাংশ, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ। অনাবাসিক বা পোস্টাল ব্যালটের প্রায় ৬ লাখ ভোট বৃহস্পতিবারের আগে সম্পূর্ণ গণনা করা সম্ভব হবে না এবং চূড়ান্ত ফলাফলের পর প্রেসিডেন্ট জোট গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন।

তেল আবিবে ইয়াশার পার্টির সদর দপ্তরে কান, চ্যানেল ১২ এবং চ্যানেল ১৩-এর প্রাথমিক সমীক্ষায় বিরোধী জোটকে ৫২ থেকে ৫৩টি আসনে এগিয়ে থাকতে দেখে সমর্থকরা উদযাপনে মেতে ওঠে। এ সময় আইজেনকোট প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘জনগণের সিদ্ধান্ত যেন একটি সিয়োনিস্ট সরকারে রূপান্তরিত হয় তা নিশ্চিত করব: যা সমস্ত ইসরায়েলি নাগরিকের জন্য স্থিতিশীল ও ভালো হবে।’

তার রাজনৈতিক মিত্র ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদ দাবি করেন, নেতানিয়াহুর জোট এক ‘শোচনীয় পরাজয়ের’ সম্মুখীন হয়েছে। তবে লিকুদ পার্টির জেরুজালেম সদর দপ্তরে উল্লাসের পরিবেশ দেখা যায়নি। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইটজিক নামের এক লিকুদ সমর্থক বলেন, ‘সবকিছু শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি শেষ নয়, তবে আমি ঘামছি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডোন সার বামপন্থীদের উদযাপিত আনন্দকে ‘অকালপক্ব’ বলে মন্তব্য করেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সমর্থকদের প্রার্থনা করার আহ্বান জানান। পরবর্তীতে বুথফেরত সমীক্ষা আপডেট করা হলে কান ও চ্যানেল ১৩ উভয় জোটকে ৫১ আসনে সমতা দেখায় এবং চ্যানেল ১২ নেতানিয়াহুর জোটকে ৫২ এবং আইজেনকোটকে ৪৯ আসনে দেখায়।

এরপর বুধবার ভোরে নেতানিয়াহু উপস্থিত হয়ে দাবি করেন, তার ডানপন্থী জোটের বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং তিনি একটি ‘শক্তিশালী, ডানপন্থী জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান। 

অন্যদিকে দুই আরব দলের অন্যতম নেতা মনসুর আব্বাস বলেন, ‘আমি আশা করি সংখ্যাগুলো মিলবে এবং আমরা, পরিবর্তন জোট ও ইউএএল মিলে নেসেটের ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারব।’ যৌথ তালিকার চেয়ারম্যান ইউসেফ জাবারিন সতর্ক করে বলেন, ‘যেকোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমাদের উপেক্ষা করা যাবে না।’

নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে ভোটারদের মতামত ছিল বিভক্ত। ৮৮ বছর বয়সী জিভিট আব্রামসন বিবিসিকে বলেন যে তিনি আইজেনকোটকে ভোট দিয়েছেন কারণ নেতানিয়াহু ‘এই দেশটিকে ধ্বংস করছেন’ এবং তিনি আরও যোগ করেন, ‘তিনি কেবল নিজেকে নিয়ে থাকেন, শুধুই নিজের জন্য।’ অন্যদিকে ক্লেয়ার টুগেনধাফট জানান, তিনি নেতানিয়াহুকে ভোট দিয়েছেন কারণ ‘আমি মনে করি বহির্বিশ্বের দিকে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনিই সেরা ব্যক্তি।’

ভোটের দিন নেতানিয়াহু সমর্থকদের কেন্দ্রে টানতে সতর্ক করে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আপনি যদি ভোট না দেন, আমরা আগামীকাল এক বামপন্থী সরকার, আরব দল ও চরমপন্থীদের নিয়ে ঘুম থেকে উঠব এবং আমরা দেশকে হারাব।’ ডানপন্থী দলগুলো রাত ১০টার পর ভোটের সময় বাড়ানোর আবেদন জানালেও সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটি তা প্রত্যাখ্যান করে জানায় যে বর্তমান পরিস্থিতি সময় বাড়ানোর যৌক্তিকতা নির্দেশ করে না।

সূত্র: বিবিসি