গতি বেড়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্থলভাগে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, পূর্ব ভারতে ভারী বৃষ্টি

ভারতের পদুচেরির ইয়ানাম উপকূল দিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্থলভাগে আঘাত হানতে শুরু করেছে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোররাত থেকে উপকূল অতিক্রম শুরু করা ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় বিভিন্ন রাজ্যে তুমুল বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া শুরু হয়েছে। খবর এনডিটিভির।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। গতি বেড়ে যাওয়ায় ঘূর্ণিঝড়টি পূর্বনির্ধারিত সময়ের আগেই বুধবার ভোররাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে স্থলভাগে আঘাত হানতে শুরু করে। সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এটি অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করবে।

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আঘাত হানার আগেই বড় ধরনের প্রস্তুতি নেয় অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু জানিয়েছেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় রাজ্যজুড়ে ২ হাজার ১৯৯টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঝড়ের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

বিশেষ সতর্কতার অংশ হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ২ হাজার ৩৬০ জন অন্তঃসত্ত্বাকে বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিরাপদে স্থানান্তর করা হয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে তাদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত না হয়।

উপকূলীয় বাসিন্দাদের নিরাপদে অবস্থান করার এবং দুর্যোগ চলাকালে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না বের হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ‘অর্ণব’ এখন একটি ‘অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়’ (ভেরি সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম) রূপ নিয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে বিভিন্ন এলাকায় তীব্র দমকা হাওয়ার সঙ্গে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিখ্যাত দিঘা সমুদ্রসৈকতে বঙ্গোপসাগর ভয়ংকর উত্তাল রূপ ধারণ করেছে এবং সৈকতজুড়ে প্রবল বেগে ঝড়ো হাওয়া বইছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।