ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সংগীতশিল্পী ও সাবেক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। দুর্গাপূজার ডোনার পাস বিক্রি করে ৬৫ থেকে ৭৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলার তদন্তের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) কলকাতার সল্টলেকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) কার্যালয়ে প্রায় চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর বেরিয়ে আসার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে নেওয়া হয়। তবে কোন মামলায় এবং কী অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইন্দ্রনীল সেন ও তার স্ত্রী মধুছন্দা সেনের প্রতিষ্ঠিত মাস আর্ট নামের একটি সংস্থার বিরুদ্ধে দুর্গাপূজার ডোনার পাস বিক্রি করে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় জয়দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নামের এক ব্যক্তি কলকাতার বউবাজার থানায় অভিযোগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কলকাতার ২৪টি উল্লেখযোগ্য দুর্গাপূজা দেখার সুযোগ দেওয়ার কথা বলে ‘প্লাটিনাম ফ্যামিলি ডোনার পাস’ বিক্রি করত মাস আর্ট। প্রতিটি পাসের দাম ছিল ৪ হাজার রুপি। পাস বিক্রির ক্ষেত্রে ইউনেসকোর নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী ইউনেসকোর আনুষ্ঠানিক অংশীদার না হলেও নিজেদের ওই সংস্থার অংশীদার হিসেবে পরিচয় দিতেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইন্দ্রনীল সেনের বক্তব্য জানা যায়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালে ১৯ হাজার, ২০২৩ সালে ৩৪ হাজার এবং ২০২৪ সালে ৬১ হাজার ডোনার পাস বিক্রি করা হয়। এসব পাস বিক্রি থেকে ৬৫ থেকে ৭৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী। তবে পাস বিক্রির সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এর আগে ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাসভবন, হুগলিতে তার খামারবাড়ি এবং তার ১৫ জন আত্মীয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি।
গ্রেপ্তার এড়াতে ইন্দ্রনীল সেন কলকাতা হাইকোর্টের পর ভারতের সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তবে আদালত তাকে সুরক্ষা দেননি।
২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর কলকাতার দুর্গাপূজাকে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ইউনেসকো। এরপর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কলকাতার দুর্গাপূজার পরিচিতি আরও বাড়ে। এই স্বীকৃতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দাবি তুলে ডোনার পাস বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে মাস আর্টের বিরুদ্ধে।