জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও তাদের চা দোকানি বাবা-মাকে সংবর্ধনা দিল ‘নাম্বার ওয়ান’

চা দোকানি বাবা-মায়ের শ্রম ও তাদের সন্তানদের শিক্ষাগত সাফল্যের স্বীকৃতি দিতে ‘নাম্বার ওয়ান বাবার কৃতী সন্তান সংবর্ধনা ২০২৬’-এর আয়োজন করেছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘নাম্বার ওয়ান’। এই আয়োজনে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী চা দোকানিদের ১৩৫ জন মেধাবী সন্তান ও তাদের বাবা-মাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থমূল্যসহ বিভিন্ন উপহার তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আগামী দুই বছর শিক্ষাসহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে নাম্বার ওয়ান। এই কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীরা ‘১০ মিনিট স্কুল’ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক অনলাইন একাডেমিক কোর্স করার সুযোগ পাবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক এবং টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এমজিআইয়ের চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. রহমতুল্লাহ খোন্দকার, চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার আতিক উজ জামান খান, অডিটের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন, ব্র্যান্ডের ডিজিএম মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, এজিএম অর্জুন চন্দ্র নাথ, আব্দুর রহিম শেখ এবং রতন মজুমদার।

লেখক ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, জীবনে বড় হওয়ার জন্য শুধু ভালো ফল করাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন স্বপ্ন দেখা, পরিশ্রম করা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার সাহস। তোমাদের অনেকের পরিবার হয়তো নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করে। কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতা যেন তোমাদের স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। নিজেদের যোগ্যতা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তোমরা পরিবার ও সমাজের জন্য গর্ব বয়ে আনবে, এটাই প্রত্যাশা।

আয়মান সাদিক বলেন, শিক্ষার্থীদের জীবনে সঠিক দিকনির্দেশনা ও শেখার সুযোগ অনেক বড় ভূমিকা রাখে। তোমরা এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে নিজেদের মেধার পরিচয় দিয়েছ। এবার এই অর্জনকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যেতে হবে। নিয়মিত পড়াশোনা, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তুতি এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখলে তোমরা এইচএসসি পরীক্ষাতেও ভালো করতে পারবে। তোমাদের শিক্ষাযাত্রায় নাম্বার ওয়ানের এই সহায়তা যেন কাজে লাগে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানে এমজিআইয়ের চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. রহমতুল্লাহ খোন্দকার বলেন, ১৩৫ জন শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন তাদের পরিশ্রম ও চা দোকানি বাবা-মায়ের ত্যাগের ফল। বৃত্তি ও দুই বছরের শিক্ষাসহায়তা তাদের এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কাজে আসবে বলে আমরা আশা করি।

চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার আতিক উজ জামান খান বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে তাদের বাবা-মায়ের অবদান অনস্বীকার্য। নাম্বার ওয়ানের এই উদ্যোগ তাদের উৎসাহিত করবে এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তা করবে।

কক্সবাজারের বায়তুশ শরফ স্কুলের শিক্ষার্থী দিয়া চৌধুরী বলেন, নাম্বার ওয়ানের এই আয়োজন আমাদের জন্য অনেক উৎসাহের। এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য দুই বছরের শিক্ষাসহায়তা পাওয়ার সুযোগ আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। আমি ভালোভাবে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে নিজের পরিবার ও দেশের জন্য কিছু করতে চাই।

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘নাম্বার ওয়ান’ দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন পণ্য বাজারজাত করে আসছে। দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে চা দোকানিদের সঙ্গে ব্র্যান্ডটির দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাদের সন্তানদের শিক্ষাগত অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়া এবং উচ্চশিক্ষার পথে সহায়তার মাধ্যমে নাম্বার ওয়ান তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার অব্যাহত রেখেছে।