শরণখোলা

পাঁচ গ্রামে বাঘের পায়ের ছাপ, ড্রোন উড়িয়ে তল্লাশি, আতঙ্ক

বাগেরহাটের শরণখোলায় বাঘ আতঙ্কে গত দশ দিন ধরে পাঁচ গ্রামের মানুষ রাতের বেলা ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

সর্বশেষ বুধবার (২৮ অক্টোবর)  দুপুরে শরণখোলা গ্রামের ধানক্ষেতে একটি বাঘের বাচ্চার দেখা মিলেছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর সকালে সুন্দরবন সংলগ্ন পানিরঘাট (শরণখোলা) এলাকায় প্রথমে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পায় গ্রামবাসী। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ড্রোন উড়িয়ে বাঘের সন্ধান করছে বনবিভাগ।

বুধবার বিকেলে সরেজমিনে সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের পূর্ব সোনাতলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের মানুষের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ।

শরণখোলা গ্রামের মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘বুধবার দুপুর ২টার দিকে গ্রামের ধানক্ষেতের পাশে পুকুরে হাঁসের ডাকাডাকি ও অস্থিরতা দেখে এগিয়ে গিয়ে পুকুর পাড়ে  একটি বাঘের বাচ্চা দেখতে পাই। হাঁকডাক দিয়ে ঢিল ছুড়লে বাঘের বাচ্চাটি ধানক্ষেতে ঢুকে যায়।’

সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা কবির হাওলাদার ও গৃহবধূ রুমানা বেগম জানান, গত দশদিন আগে সুন্দরবন থেকে ভোলানদী সাঁতরে বাচ্চাসহ বাঘ লোকালয়ে এসে রাতের অন্ধকারে শরণখোলা, সোনাতলা, পূর্ব সোনাতলা, মডেলবাজার ও পানিরঘাট এলাকার ধানক্ষেতসহ বাগান বাড়ির আশেপাশে বিক্ষিপ্তভাবে বিচরণ করার বাঘের পায়ের ছাপ দেখা যাচ্ছে। অনেকে বাঘের পায়ের ছাপ মাটি খুঁড়ে বাড়িতে নিয়ে সংরক্ষণ করছেন বলে তারা জানালেন।

সোনাতলা গ্রামের আবু রাজ্জাক আকন বলেন, শরণখোলা, সোনাতলা, পূর্ব সোনাতলা, মডেলবাজার ও পানিরঘাট এলাকার মানুষজন বাঘের ভয়ে রাতের বেলা বাইরে বের হচ্ছেন না।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, গ্রামে বাঘ আসার খবর পেয়ে বাঘের সন্ধানে ওই এলাকার ধান খেতে কয়েক দফা ড্রোন উড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। বাঘের সন্ধান পাওয়া যায়নি। জনসাধারণকে সচেতন করতে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে এবং বনরক্ষীসহ ভিটিআরটি ও সিপিজি সদস্যদের সার্বক্ষণিক টহলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে এসিএফ জানান।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী বুধবার রাতে ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, শরণখোলার লোকালয়ে বাঘ আসার খবর পেয়ে শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ বনরক্ষীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার তিনি ঘটনাস্থলে যাবো।