চীনের ‘এক চীন’ নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাইওয়ানের বিমান সংস্থাগুলোর জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান। বেইজিংয়ের এ নীতির সমর্থনে তাইওয়ানের উড়োজাহাজ চলাচলে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা প্রথম দেশ পাকিস্তান।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের বরাতে বলা হয়েছে, দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ‘এক চীন’ নীতি অনুসরণ করছে। এর ফলে চীনের মূল ভূখণ্ডের বিমান সংস্থাগুলো পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারলেও তাইওয়ানের বিমান সংস্থাগুলো এ সুবিধা পাবে না।
খাজা আসিফ বলেন, পাকিস্তানের আকাশসীমা দিয়ে চীনের গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের উড়োজাহাজ চলাচলের অনুমতি রয়েছে। তবে তাইওয়ানের বিমান সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে এই অনুমতি প্রযোজ্য হবে না।
বিমান চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্ত থেকেই পাকিস্তানের আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে ফ্লাইটের রুট পরিবর্তন করতে শুরু করে তাইওয়ানের বিমান সংস্থাগুলো। রোববারের মধ্যে চায়না এয়ারলাইনস লিমিটেড ও ইভা এয়ারওয়েজ করপোরেশন পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার বন্ধ করে দেয়। এ বিষয়ে ব্লুমবার্গের প্রশ্নের জবাবে বিমান সংস্থা দুটি কোনো মন্তব্য করেনি। তাইওয়ানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও রুট পরিবর্তনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।
পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ চীনের নিজস্ব বিধিনিষেধের চেয়েও কঠোর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, চীন নিজেদের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে তাইওয়ানের বিমান সংস্থাগুলোকে উড়োজাহাজ পরিচালনার অনুমতি দিয়ে থাকে।
বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে এবং দ্বীপটিকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া একটি প্রদেশ হিসেবে বর্ণনা করে। অন্যদিকে, তাইপে নিজেদের একটি স্বাধীন ভূখণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত বলে দাবি করে। এই বিরোধ দীর্ঘদিন ধরেই চীন ও তাইওয়ানের সম্পর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।
‘এক চীন’ নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে ১৯৫১ সালে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করে পাকিস্তান। এ নীতিতে চীনের একমাত্র বৈধ সরকার হিসেবে বেইজিংকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
এদিকে ইসলামাবাদ ও বেইজিংয়ের মধ্যে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের আওতায় পাকিস্তানে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে বেইজিং। পাশাপাশি পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশও চীন।
দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করার অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার চীন-পাকিস্তান তথ্য করিডর চালু করেছে বেইজিং। তাইওয়ানের বিমান সংস্থাগুলোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘটনা দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে সামনে এলো।
সূত্র : ব্লুমবার্গ