মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পৃথক সংঘর্ষ ও হামলায় টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৫ জন এবং সন্ধ্যায় বাউশিয়া ইউনিয়নের চর বাউশিয়া ফরাজীকান্দি গ্রামে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় একই পরিবারের ৪ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে ৪ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বড় ভাটেরচর গ্রামে পূর্ববিরোধের জেরে সাবেক ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিনের অনুসারীদের সঙ্গে ইউপি সদস্য মাহফুজুর রহমান রিপনের অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের পাঁচজন আহত হন।
আহতরা হলেন সাবেক ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিনের ছোট ভাই আতাউর (৪০), ভাতিজা বাইজিদ (১৪) ও সোহেল (৪১)। অন্য পক্ষের মুজাহিদ (১৭) ও অমিত (২০) আহত হন।
আহতদের মধ্যে আতাউর, সোহেল এবং মুজাহিদ ও অমিতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে পুলিশ।
সাবেক ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন জানান, তিনি পেশায় একজন আড়তদার। বুধবার রাতে আড়তের বেচাকেনা শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে জাকির প্রধানের বাড়ির সামনে পৌঁছালে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর ওপর হামলা চালান। তার দাবি, সাবেক ইউপি সদস্য রিপনের অনুসারী সানজিদ, রিমন, রিফাত ও শাহজালালসহ ৮ থেকে ১০ জন টেঁটা, রামদা ও ছুরি নিয়ে হামলা করেন।
প্রাণভয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে স্বজনদের খবর দেন তিনি। পরে স্বজনেরা সেখানে গেলে তার ছোট ভাই আতাউর টেঁটাবিদ্ধ হন। আতাউরকে রক্ষা করতে তাঁর ছেলে বাইজিদ ও সোহেল এগিয়ে গেলে তাদেরও মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয় বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় সেলিম মিয়া গজারিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য মাহফুজুর রহমান রিপন মুঠোফোনে বলেন, আমাকে জড়িয়ে দেওয়া বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি কয়েক দিন ধরে ঢাকায় রয়েছেন। একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে একই এলাকার হাসান ও সাবেক ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিনের পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। খেলায় অতিথি নিয়ে একটি পোস্টারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। হাসান পক্ষের অমিত ও মুজাহিদ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের চর বাউশিয়া ফরাজীকান্দি গ্রামে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে জামাল উদ্দিনের বসতবাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ আলাউদ্দিনের লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জামাল উদ্দিনের স্ত্রী ক্যানসার আক্রান্ত মনি বেগম, সৌদি আরবপ্রবাসী ছেলে সুমন মিয়া, মেয়ে ইতি আক্তার ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী লিলি আক্তার আহত হন। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে গজারিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
আহত সুমন মিয়া বলেন, আমি ৩ মাসের ছুটিতে সৌদি আরব থেকে দেশে এসেছি। দীর্ঘদিন ধরে আমার বাবা ওই জমি ভোগ দখল করে আসছেন। সম্প্রতি আলাউদ্দিন জমিটি নিজের বলে দাবি করছেন। জমির কাগজপত্র নিয়ে সালিশি বৈঠকে বসার প্রস্তাব দিলেও তারা রাজি হননি। বরং লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক বাড়ির সীমানা দখলের চেষ্টা করেছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে অভিযুক্ত আলাউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে গজারিয়া থানার ওসি নকীব আকরাম বলেন, পৃথক দুটি ঘটনায় দুটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বড় ভাটেরচর গ্রাম থেকে শাহজালাল ও রিফাত নামের দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।