শীতকালীন সবজির বাজারে স্বস্তি, তবে আবার বেড়েছে ডিমের দাম

রাজধানীর বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার ও সোনালী মুরগির দাম কমেছে। শীতকালীন নতুন সবজির দামও অন্যান্য বছরের একই সময়ের তুলনায় কম। তবে সপ্তাহের শুরুতে কমে যাওয়া ডিমের দাম আবার বেড়েছে। পাশাপাশি বোতলজাত সয়াবিন তেল ও চিনির সরবরাহ সংকটও কাটেনি। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে ডিমের দাম ওঠানামা করছে। সপ্তাহের শুরুতে প্রতি ডজন ডিম ১৬০ টাকা থেকে কমে ১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে ১৫০ টাকা হয়েছে। ডিম বিক্রেতারা জানান, গত সপ্তাহে টানা ছুটির সময় দাম কমেছিল। এরপর আবার প্রতি ডজনে ১০ টাকা বেড়েছে।

অন্যদিকে, মুরগির বাজারে গত সপ্তাহের দাম বাড়ার প্রবণতা নেই। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এর দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বেশি ছিল। একইভাবে সোনালী মুরগির দাম কমে ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় নেমেছে। গত সপ্তাহে এই মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল।

সবজির বাজারে দেখা যাচ্ছে মিশ্র প্রবণতা। গ্রীষ্মকালীন কিছু সবজির দাম এখনো চড়া থাকলেও শীতকালীন নতুন সবজির দাম তুলনামূলক কম। বাজারে নতুন আসা ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, মুলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং শিম ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা এনামুল মিয়া বলেন, কয়েক সপ্তাহ হলো বাজারে শিম ও মুলা আসতে শুরু করেছে। তবে নতুন সবজির দাম তুলনামূলক অনেক কম। গত বছর একই সময়ে এসব সবজি আরও বেশি দামে কিনতে হয়েছে।

গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে ঝিঙে, চিচিঙ্গা, পটোল ও ঢ্যাঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। তবে করলা ও বেগুনের দাম এখনো কিছুটা বেশি। এ দুটি সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল ও চিনির সরবরাহ সংকট এখনো কাটেনি। বিশেষ করে সয়াবিন তেল কিনতে ক্রেতাদের একাধিক দোকান ঘুরতে হচ্ছে। বোতলের গায়ে প্রতি লিটারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২০৪ টাকা লেখা থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, কোম্পানিগুলো তাদের দোকানে তেল সরবরাহ করছে না এবং মুনাফাও কমিয়ে দিয়েছে। ফলে নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন পাইকারি বাজার থেকে তেল সংগ্রহ করে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের কাছ থেকে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখতে হচ্ছে।