সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও সামরিক স্থাপনায় ছয়টি হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এ দাবি করেন। তবে হামলার বিষয়ে হুতিদের বক্তব্য স্বাধীন কোনো সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইয়াহিয়া সারির এ ঘোষণার আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেহরানে সৌদি আরব ও ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। ওই আলোচনায় দুই পক্ষ সংলাপের মাধ্যমে হুতি-সৌদি সংঘাত নিরসনে একমত হয়েছিল। বৈঠকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনার পর ইতিবাচক বক্তব্য এলেও দুই পক্ষের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে।
গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে ইয়াহিয়া সারি বলেন, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলাগুলো চালানো হয়েছে। দেশটির পূর্ব ও পশ্চিম উপকূল থেকে রাজধানী রিয়াদ এবং দক্ষিণের নাজরান অঞ্চল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার দাবি করেন তিনি।
হুতি মুখপাত্রের বিবৃতি অনুযায়ী, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাস তানুরা তেল শোধনাগার এবং আবকাইক এলাকায় সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ড্রোন দিয়ে দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাবিগ তেল শোধনাগার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। নাজরান অঞ্চলে সৌদি সামরিক বাহিনীর একটি সদর দপ্তরেও হামলার কথা জানিয়েছে তারা।
এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের দিকে যাওয়ার সময় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সেগুলো শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। গতকাল জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি এ তথ্য জানান।
সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের পর ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে রিয়াদে এক সৌদি নাগরিক আহত হয়েছেন। এতে একটি বাড়ি ও একটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সংস্থাটির মুখপাত্র রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন।
এর আগে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ধ্বংসের খবর প্রকাশের আগে রিয়াদ, আল-খারজ প্রদেশ ও নাজরান শহরে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল।
সূত্র: আলজাজিরা