কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে বাস্তব জগতের নানাবিধ পরিস্থিতিতে আরও দক্ষ ও স্বাবলম্বী করে তুলতে অভিনব এক পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক প্রযুক্তি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ডাইমেনশনাল। এআই মডেল প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে শহরের রাস্তায় চার পেয়ে রোবট কুকুর হাঁটার কাজ তদারকি করতে কর্মী নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ কাজের জন্য কর্মীদের প্রতি ঘণ্টায় ২০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৪৮৩ টাকা) মজুরি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে, ডাইমেনশনাল চার পা-বিশিষ্ট এসব রোবট কুকুর নিয়ে সান ফ্রান্সিসকোর বিভিন্ন রাস্তায় চার থেকে ছয় ঘণ্টা ঘুরে বেড়ানোর জন্য অপারেটর খুঁজছিল। চাকরিটির জন্য প্রযুক্তি কিংবা রোবটিক্স সংক্রান্ত পূর্ব অভিজ্ঞতার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি, কারণ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।
গত ৫ অক্টোবর প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিটি শিফট সম্পন্ন হওয়ার পরই তাৎক্ষণিক পারিশ্রমিক দেওয়া হবে। তবে কাজের অংশ হিসেবে কর্মীদের প্রায় ৩৩ পাউন্ড ওজনের যন্ত্রপাতি বহনে সক্ষম হতে হবে, যেন অতিরিক্ত গরম হওয়া বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পথিমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া রোবটগুলোকে আবার বহন করে ফিরিয়ে আনা যায়।
ডাইমেনশনালের প্রতিষ্ঠাতা স্ট্যাশ পমিখটার জানিয়েছেন, মানুষের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে যখন রোবট কুকুরগুলো পরিচালিত হয়, তখন এর যুক্ত সেন্সর ও ক্যামেরা চারপাশের বৈচিত্র্যময় পরিবেশ থেকে প্রচুর ডেটা সংগ্রহ করে। বর্তমান পরীক্ষায় তারা দেখেছেন যে হার্ডওয়্যার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এআই এজেন্টগুলো এখনো পুরোপুরি কার্যকর নয়, ফলে মানুষের সহায়তার প্রয়োজনীয়তা থেকে যায়। মূলত সান ফ্রান্সিসকোর ডগপ্যাচ এলাকায় অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি এমন একটি ওপেন-সোর্স অপারেটিং সিস্টেম তৈরির কাজ করছে, যার মাধ্যমে এআই সরাসরি যেকোনো রোবটকে সফলভাবে চালাতে পারবে।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও প্রকল্পটির পরিধি বেশ বড়। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানির বিভিন্ন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ইতোমধ্যে শতাধিক রোবট কুকুর এবং ৫০টি মানবসদৃশ (হিউম্যানয়েড) রোবট সংগ্রহ করেছে ডাইমেনশনাল। চীনা প্রতিষ্ঠান ইউনিট্রি নির্মিত প্রতিটি রোবট কুকুরের গড় দাম প্রায় ২ হাজার ডলার। ভবিষ্যতে এসব প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রোবটগুলোকে শিল্পকারখানা, ডেটা সেন্টার, নির্মাণ এলাকা এবং নিরাপত্তাজনিত গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারের বড় পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।