পা দিয়ে লিখে এসএসসির পর এবার এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেলেন রাব্বি

বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে হারিয়েছেন দুই হাত, তবুও থেমে যায়নি পড়াশোনা। প্রথমে মুখ দিয়ে লেখা শুরু করেন, পরে আয়ত্ত করেন পা দিয়ে লেখার কৌশল। সেই পা দিয়েই এসএসসির পর এবার উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ পেয়েছেন মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রাব্বি।

তিনি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা বজলুর রহমানের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। এর আগে ২০২৪ সালে ভাটিয়ারীর হাজী তোবারক আলী উচ্চবিদ্যালয় থেকে পা দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন তিনি। ভবিষ্যতে বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান। পরে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে পরিবারের অভাব দূর করার পাশাপাশি দেশের সেবা করার স্বপ্ন দেখেন।

স্থানীয়রা জানায়, দরিদ্র পরিবারের সন্তান হলেও সমাজের অন্যদের মতোই সুস্থ-স্বাভাবিক ছিলেন রাব্বি। ২০১৬ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভাটিয়ারী ফুটওভার ব্রিজের ওপর ছিঁড়ে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারের স্পর্শে তার দুটি হাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে তার দুটি হাতই কেটে ফেলেন চিকিৎসকরা। 

দুর্ঘটনার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, রাব্বির পক্ষে হয়তো আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কাছে হার মানেননি তিনি। পড়াশোনা চালিয়ে যেতে প্রথমে মুখ দিয়ে লেখার অনুশীলন শুরু করেন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মুখ দিয়ে লিখেই পড়াশোনা করে জেএসসিতে জিপিএ ৫ পায় রাব্বি। পরে মুখের বদলে পা দিয়ে লেখার চর্চা শুরু করে রাব্বি। এভাবেই সে এসএসসিতেও জিপিএ ৫ অর্জন করেন এবং এবার এইচএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ ৫ অর্জন করেন তিনি। এবার তার সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষা দেয় রাব্বির বোন রোকাইয়া আক্তার রাওজা। ভাটিয়ারী বিজয় স্মরণী কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হয়েছে সে।

ছেলের ধারাবাহিক সফলতায় উচ্ছ্বসিত বাবা বজলুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর রাব্বির দুটি হাত কেটে ফেলার পর ভেবেছিলাম সে আর পড়াশোনা করতে পারবে না। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা সহায় হলেন। এভাবেই সফল হয়ে জীবনে সফল মানুষ হতে পারে এ জন্য সবার কাছে ছেলের জন্য দোয়া চান তিনি।

রাব্বি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর অশেষ রহমতে এসএসসির পর এইচএসসিতেও ভালো ফল অর্জন করেছি। এ জন্য মা-বাবা, শিক্ষকসহ যারা সহযোগিতা করেছেন, সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আমার আশা, বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করব। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।’

ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আনোয়ার বলেন, রাব্বির চেষ্টা ছিল। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হলেও সে নিজেকে কখনো প্রতিবন্ধী মনে করেনি। বরং অন্যরা যা পারে সেও তাই পারবে এমনটাই ছিল তার বিশ্বাস। আজ সে বিশ্বাসেই তার এই সফলতা। তার এ সফলতায় ভাটিয়ারীর সকল মানুষ গর্ববোধ করছে। আমরা চাই সে আরো বড় হয়ে সফলতার শীর্ষে উঠে যেন সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।