মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার কথা ভাবছে সিরিয়া

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে সিরিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বাহরাইনে অনুষ্ঠিত মানামা সংলাপ সম্মেলনে আসাদ আল-শাইবানি বলেন, ‘মক্কা জোটে সিরিয়ার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি মূল্যায়নে বর্তমানে আলোচনা চলছে।’

আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি সমর্থন জানান এবং তাদের ওপর যেকোনো ধরনের হামলার নিন্দা করেন। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিরোধিতা করেন তিনি।

গত আগস্টে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের ৩০টি দেশের সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে এই চুক্তির তুলনা করা হচ্ছে।

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হামলার মুখে থাকা সৌদি আরব সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম প্রধান সমর্থক। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর ক্ষমতায় আসে বর্তমান সরকার।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ইরান-সমর্থিত হুতিদের ক্রমবর্ধমান হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। তবে এখন পর্যন্ত ইসলামাবাদ কিংবা আঙ্কারা—কোনো পক্ষই হুতিদের বিরুদ্ধে হামলার ঘোষণা দেয়নি।

এদিকে তুরস্কে চুক্তিটির অনুমোদন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়া হলেও ইয়েমেনে সেনা মোতায়েন কিংবা হুতিদের ওপর হামলায় তুর্কি সেনারা অংশ নেবে না।

 

সূত্র: আল-জাজিরা/ডন