মন্ত্রী-আমলাদের সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করলো ইথিওপিয়া

সামরিক বাহিনীতে শক্তিশালী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে মন্ত্রিসভার সদস্য ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করেছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। হুরসো সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে নিজেও সামরিক অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ছবিতে দেখা যায়, আবি আহমেদ বাদামী রঙের সামরিক পোশাকে মাটিতে বসে সামরিক অনুশীলনে অংশ নেওয়া অন্যদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিচ্ছেন। উচ্চপদস্থ বেসামরিক কর্মকর্তাদের এই ধরণের সামরিক অনুশীলনে অংশ নেওয়ার ঘটনা ইথিওপিয়ায় একেবারেই অস্বাভাবিক।

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন হাউস অব ফেডারেশনের স্পিকার মুফেরিয়াত কামিল, অর্থমন্ত্রী ফিটসুম আসফা এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মেকদেস দাবা। এই প্রশিক্ষণ ঠিক কবে শুরু হয়েছে বা কতদিন ধরে চলবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পোস্টে প্রধানমন্ত্রী আবি বলেন, সর্বজনীন সমৃদ্ধি অর্জনে ইথিওপিয়ার লক্ষ্য পূরণের জন্য দেশের নেতৃত্বকে শারীরিক সক্ষমতা অর্জন, নৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়া এবং বুদ্ধিগতভাবে যোগ্য হওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, দলগত কাজ, জবাবদিহিতা ও নেতৃত্বের মূল্যবান শিক্ষা প্রদান করে।

তিনি বলেন, ‘সৈনিকদের লক্ষ্য থাকে এবং বেসামরিক নাগরিকদেরও উদ্দেশ্য থাকে। উভয়ের লক্ষ্যই হলো বিজয়।’ তিনি আরও যোগ করেন, সামরিক ও বেসামরিক অনুশাসনের সমন্বয় ঘটানো এমন এক প্রজন্ম তৈরিতে সাহায্য করবে যারা উভয় লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে।

আবি আহমেদ যুক্তি দেন যে উদ্দেশ্যবোধ, দায়িত্ববোধ এবং সাধারণ লক্ষ্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা তৈরি করতে সামরিক প্রশিক্ষণ অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে।

উত্তরাঞ্চলীয় টাইগ্রে অঞ্চলের কিছু অংশে ধারাবাহিক সংঘর্ষ, আমহারার সংঘাত ও ওরোমিয়ার নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা ও নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার উদ্বেগের মধ্যেই সরকারি কর্মকর্তাদের এই সামরিক প্রশিক্ষণের বিষয়টি সামনে এলো।

পূর্বেও প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ তার সরকারের মূল লক্ষ্য হিসেবে সামরিক প্রস্তুতি ও জাতীয় উন্নয়নকে গুরুত্বের সঙ্গে প্রাধান্য দিয়েছিলেন।

সূত্র: বিবিসি