আর্জেন্টিনা দলের গোলপোস্টে সবচেয়ে ভরসার নাম এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। সবশেষ বিশ্বকাপেও ছিলেন দুর্দান্ত। তবে বিশ্বকাপের মতো আসরে ভাঙা আঙুল নিয়ে খেলেছিলেন এই গোলরক্ষক। সম্প্রতি সাংবাদিক গাস্তন এদুলের ইউটিউব অনুষ্ঠান ‘লস এদুল’-এ অংশ নিয়ে নিজের এই অবিশ্বাস্য ত্যাগের কথা প্রকাশ করেছেন মার্টিনেজ।
২০২৬ সালের মে মাসে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ফ্রাইবুর্গের বিপক্ষে ইউরোপা লিগের ফাইনালের আগে ওয়ার্মআপ করার সময় মার্টিনেজের ডান হাতের অনামিকা আঙুলটি ভেঙে যায়। চিকিৎসকেরা তাকে জানিয়েছিলেন যে, সুস্থ হতে হলে দ্রুত অস্ত্রোপচার করতে হবে, যার ফলে তিনি বিশ্বকাপ মিস করবেন। কিন্তু দেশের হয়ে আরও একটি বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পূরণ করতে তিনি অস্ত্রোপচার না করার ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন।
মার্টিনেজ জানান, চোটের কারণে তিনি হাত দিয়ে ঠিকমতো বল ধরতে পারতেন না। টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে সাধারণ ফুটবলের বদলে হালকা ভলিবল দিয়ে গোলকিপিং অনুশীলন করতেন। অ্যাডিডাস তার সুরক্ষার জন্য একটি বিশেষ গ্লাভস তৈরি করে দিয়েছিল।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন এক হাত দিয়ে ডাইভ দিতে হচ্ছিলো মার্টিনেজকে। তিনি বলেন, ‘আমি তখন জম্বির মতো ডাইভ দিচ্ছিলাম। হাতটা মাটিতে রাখলেই চোখে তারা দেখতাম। ভয়াবহ যন্ত্রণা ছিল। প্রতিটি রাতে আমি কাঁদতাম। আমার আঙুলটা সসেজের মতো ফুলে থাকতো।’
মার্টিনেজের আঙুলটি আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরবে না। এখনো ব্যথা নিয়ে খেলতে হচ্ছে তাকে। আর্জেন্টাইন এই গোলরক্ষক বলেন, ‘এটা আর কখনো আগের মতো হবে না। এখনো ব্যথা নিয়ে খেলছি। কিন্তু জাতীয় দলের জন্য এমন ঝুঁকি নিতেই হয়। আবারও একই কাজ করবো।’
গ্রীষ্মকালীন দলবদলে জুভেন্টাসে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল মার্তিনেজের। কিন্তু মেডিক্যাল পরীক্ষায় আঙুলের চোটের পুরো চিত্র সামনে আসতেই ভেস্তে যায় ইতালিয়ান ক্লাবটিতে যাওয়ার স্বপ্ন। মার্টিনেজ বলেন, ‘আমি এক্স-রে করিয়েছিলাম। দেখা গেল, আবার ভেঙেছে। এই আঙুলের কারণেই একটা ক্লাবে যাওয়ার দলবদল ভেস্তে যায়।’