বরিশালের মুলাদী উপজেলায় শ্বশুরবাড়ি থেকে মহিম হোসেন (২২) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের ডিক্রীরচর খেয়াঘাটের পশ্চিম পাড়ে সোহেল কাজীর বাড়ি থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত যুবকের পরিবারের দাবি, তাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে মরদেহের ময়নাতদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহিম বরিশালের কাশিপুর এলাকার ইছাকাঠি গ্রামের মো. মনির হোসেনের ছেলে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় ও প্রেমের সূত্র ধরে প্রায় এক বছর আগে ডিক্রীরচর গ্রামের সোহেল কাজীর মেয়ে সোহানাকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর থেকে স্ত্রীর বাবার বাড়িতেই থাকতেন মহিম। রাজমিস্ত্রীর সহকারী ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানচালকসহ বিভিন্ন কাজ করে সংসার চালাতেন।
স্থানীয়রা জানান, মহিমের অভিযোগ ছিল, সোহানা মোবাইল ফোনে টিকটক করে এবং মোবাইল অন্য কারও সঙ্গে কথা বলেন। এনিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। রোববার সকালে কাজে বের হওয়ার আগে মহিমের সঙ্গে সোহানার কথার কাটাকাটি হয়। পরে মহিম কাজে না গিয়ে ঘরের মধ্যেই ছিলেন। পরে সকাল ১০টার দিকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সোহানা জানান, সকালে তার স্বামী মহিমের সঙ্গে কথার কাটাকাটির পরে তিনি রান্না করতে যান। সকাল ১০টার দিকে রান্না শেষ হলে মহিমকে খাবার খেতে ডাকতে গিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত দেখে ডাক-চিৎকার দেন। পরে বাড়ি ও পার্শ্ববর্তী লোকজন থানায় সংবাদ দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।
মহিমের ফুপু কাজল বেগমের দাবি, স্ত্রীর টিকটক ও মোবাইল ফোনে কথা বলতে বাঁধা দেওয়ায় মহিমকে হত্যার পরে মরদেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তারা আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।