নেতানিয়াহু বলছে ভোট ‘চুরি’, কিন্তু ফলাফল বহাল রাখছে নির্বাচন কমিশন

বৈদেশিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলেও দেশটির সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান নোয়াম সোহেলবার্গ। 

রোববার (১ নভেম্বর) অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেট এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে এক ভিডিও বার্তায় নোয়াম সোহেলবার্গ বলেন, ‘আমাদের অবস্থান হলো সন্দেহগুলো প্রমাণিত হলেও এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়া বা সামগ্রিক ফলাফলের সততাকে ক্ষুণ্ন করবে না।’ 

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি কোনো প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ তোলে, মঙ্গলবারের নির্বাচনে সাফল্য পাওয়া আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো কাতার থেকে অর্থ নিয়ে ভোট ‘চুরি’ করেছে। কাতার এই অভিযোগকে অপপ্রচার হিসেবে উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

রোববার ভোটের আগে ঘুষ দেওয়ার উদ্দেশ্যে নগদ অর্থের খাম বহন করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন রাজনৈতিক কর্মীর মধ্যে দুজনকে মুক্ত করে ইসরায়েলি পুলিশ। আট আসন পাওয়া আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম পার্টির সঙ্গে যুক্ত এই অভিযুক্তদের বিষয়ে দলটির নেতা মনসুর আব্বাস বলেন, গ্রেপ্তারের ঘটনাটি অগণতান্ত্রিক এবং ‘নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার একটি প্রচেষ্টা’।

মূল বিরোধী দলীয় নেতা গাডি আইজেনকোট অভিযোগ করে বলেন, নেতানিয়াহু ‘ফলাফলকে অসংগত প্রমাণ করতে একটি সমন্বিত ও সুসংগঠিত প্রচারণা’ চালাচ্ছেন।

মঙ্গলবারের অচল নির্বাচনে ১২০ সদস্যের নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে এবং আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন, যার ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠন করতে পারছে না।

অন্যদিকে রা’আম পার্টি সহ তিনটি আরব নেতৃত্বাধীন দল রেকর্ড ১৯টি আসন লাভ করেছে। আইজেনকোটের জোট তাদের সঙ্গে যুক্ত হলে ৬৭টি আসনের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা নতুন সরকার গঠনে সাহায্য করতে পারে। চলতি সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল অনুমোদিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ নতুন সরকার গঠনের জন্য প্রার্থী মনোনীত করবেন।

সূত্র: আল জাজিরা