ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে কয়েক দিনের চরম অসন্তোষের পর সাভার ও আশুলিয়ার পোশাক কারখানাগুলোতে শান্ত পরিবেশ ফিরে এসেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে সাভারের হেমায়েতপুর, নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর ও জিরানী এবং ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ডিইপিজেড) কারখানাগুলোতে শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন।
শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই কারখানাগুলোর সামনে শ্রমিকদের সারিবদ্ধভাবে প্রবেশ করতে দেখা যায়। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে সহিংসতা ও গোলযোগ তৈরির অভিযোগে আলাদা দুটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এই দুই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
শিল্পকারখানায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির দায়ে এরইমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে ঢাকা জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে কোথা থেকে কতজনকে আটক করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ছাঁটাই করা শ্রমিকদের পুনর্বাহাল ও আন্দোলনকারীদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধের দাবিতে সাভার, গাজীপুর ও রাজধানীর মিরপুর এলাকার শিল্পাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছিল।
গত রোববার ও সোমবার (১ ও ২ নভেম্বর) আন্দোলনকারী শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাভার ও গাজীপুর এলাকায় বিজিবিও মোতায়েন করা হয়।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার সারা দেশে ২ হাজার ১৩৪টি পোশাক কারখানার মধ্যে ৬৭০টি কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এতে ১৭ লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ না করে বাসায় ফিরতে বাধ্য হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই দিনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার করে কারখানা চালুর কড়া নির্দেশ দেয়া হয়।