বনভূমি দখল করে ঘর নির্মাণ

উচ্ছেদে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার হামলার শিকার পুলিশ ও বনকর্মীরা

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সরকারি বনভূমি দখল করে নির্মিত বসতঘর উচ্ছেদ করতে গিয়ে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশ সদস্যরা। এতে বন বিভাগের পাঁচ কর্মী এবং পুলিশের একজন কনস্টেবলসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল শীলকূপ মৌজার করলাশিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হক এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

হামলায় আহতরা হলেন—ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তোফাজ্জল হোসেন (৪৫), জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট অঞ্জন দে (৩৫), সুভাষ চন্দ্র লস্কর (৪২), পাহারাদার দেলোয়ার হোসেন (৪৫) এবং শামসুল আলম (৪৫)। এছাড়া আহত হয়েছেন এক পুলিশ কনস্টেবল।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার একটি চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সরকারি বনভূমি দখল করে ঘর নির্মাণের সুযোগ করে দিচ্ছে। সম্প্রতি মো. নজরুল ইসলাম কালু নামে এক ব্যক্তি বনভূমি দখল করে একটি বসতঘর নির্মাণ করেন। 

এই সংবাদ পেয়ে মঙ্গলবার সকালে বনবিভাগ সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে যায়। অভিযান চলাকালে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. লেয়াকত আলী এবং মো. নজরুল ইসলাম কালুর নেতৃত্বে একদল লোক লাঠিসোঁটা, দা-কিরিচ ও ইটপাটকেল নিয়ে বনকর্মী ও পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালায়।

বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ফরেস্ট রেঞ্জার মো. ইসরাঈল হক বলেন, সংরক্ষিত বনভূমির জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের খবর পেয়ে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে অভিযানে যাই। কিন্তু দখলদার চক্রটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সরকারি কাজে বাধা দিয়ে আমাদের টিম ও পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় বাঁশখালী থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

বাঁশখালী থানার ওসি মো. রবিউল হক জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।