কোটি টাকা ঘুষ চাওয়া সেই প্রসিকিউটর দেশ ছেড়েছেন

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার এক আসামির জামিন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ১ কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ ওঠা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার দেশ ছেড়েছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক অভিযোগ তুলে প্রশ্ন করেন, গত ৩১ অক্টোবর সাইমুম রেজা দেশ ছেড়ে ইতালি চলে গেছেন; অথচ আট মাস পেরিয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে গঠিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারেনি। এই দীর্ঘসূত্রতার সুযোগেই তিনি পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলেন কি না—এমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর তা সরাসরি নাকচ করে দেন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির কার্যক্রম চলমান এবং তা বর্তমানে একেবারেই শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ট্রাইব্যুনালে যোগদানের এক মাসের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে তার দেশত্যাগের ওপর আদালতের কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা না থাকায় তিনি কোথায় যাচ্ছেন বা যাবেন না, সে বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ ছিল না।

তদন্ত প্রতিবেদনে আট মাস সময় লাগার যৌক্তিকতা তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর জানান, কমিটির একজন সদস্য দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন, তিনি নিজেও কিছুদিন বিদেশে ছিলেন এবং আরেকজন প্রসিকিউটরের মা মারা যাওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলেন। এসব নানা বাস্তব জটিলতার কারণেই তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব হয়েছে। তবে খুব দ্রুতই আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ঘুষ চাওয়া এবং দেওয়া দুটোই সমান অপরাধ; ফলে যারা ঘুষের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন, তারাও সমভাবে দায়ী।

ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রাম শহরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হন সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী। তাকে জামিনে মুক্ত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা ঘুষ দাবি করেন তৎকালীন প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার।

এ বিষয়ে গত ১০ মার্চ একটি যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রথম আলো ও নেত্র নিউজ।

প্রতিবেদন প্রকাশের ঠিক আগের দিন অর্থাৎ গত ৯ মার্চ পদত্যাগ করেন সাইমুম রেজা তালুকদার। প্রতিবেদনটি প্রকাশের দিনই অভিযোগ তদন্তে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছিল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষ।