১০ হাজার টাকায় ডাকাত দলের কাছে ‘বিক্রি’

নিখোঁজের তিন দিন পর নরসিংদীর রায়পুরার নেসলে কোম্পানির কর্মী শ্যামল চন্দ্র দাসের (৫২) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ডাকাতদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন নৌকার মাঝি। পরে ডাকাতরা তাকে মারধর করে কোম্পানির লক্ষাধিক টাকা ছিনিয়ে নেয়। এমনকি পরিবারের কাছ থেকেও পুলিশের পরিচয়ে ফোন করে ২৫ হাজার টাকা আদায় করে তারা। তারপর হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়।

রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ এলাকা থেকে নদীতে ভাসমান অবস্থায় শ্যামলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামের প্রমোদ দাসের ছেলে। শ্যামল নেসলে ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মী ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নৌকাযোগে নেসলে কোম্পানির পণ্য আলোকবালি, বটতলী ও চর-আড়ালিয়ার বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করতেন শ্যামল । গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রতিদিনের মতো আলোকবালিতে পণ্য সরবরাহ করতে যান তিনি। এদিন জহিরুল নামে এক মাঝির নৌকায় করে সেখানে যান। দুপুরে দোকানগুলোতে পণ্য সরবরাহ শেষে বাড়ি ফেরার জন্য একই নৌকায় ওঠেন।

কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে মাঝি জহিরুল নির্ধারিত পথ ছেড়ে অন্যদিকে নৌকা চালাতে শুরু করেন। এর কারণ জানতে চাইলে জহিরুল তাকে সহজ ও দ্রুত পথে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন। একপর্যায়ে নৌকাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জের দিকে যেতে থাকে। পরে অন্য একটি নৌকার কাছে গিয়ে শ্যামলকে সেটিতে তুলে দিয়ে বলেন এই নৌকায় উঠলে দ্রুত বাড়ি যেতে পারবেন । শ্যামল তখনো বুঝতে পারেননি যে তাকে ডাকাত দলের কাছে 'বিক্রি' করে দিলেন জহিরুল!

এদিকে, নৌকায় ওঠার পর ডাকাতরা শ্যামলকে বেধড়ক মারধর করে কাছে থাকা কোম্পানির লক্ষাধিক টাকা ছিনিয়ে নেয় । পরে শ্যামলের মোবাইল ফোন থেকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে পুলিশের পরিচয়ে ফোন করা হয়। শ্যামল গুরুতর অসুস্থ বলে জানিয়ে রক্তের প্রয়োজনের কথা বলে দ্রুত ২৫ হাজার টাকা পাঠাতে বলা হয়। পরিবারের সদস্যরা তাদের কথামতো টাকা পাঠান এরপর শ্যামলের মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাননি স্বজনেরা। পরে নৌকার মাঝি জহিরুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি শ্যামলকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্য নৌকার মাঝিদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন ।

এরপর পরিবারের সদস্যরা রোববার নদীতে মরদেহ ভাসার খবর পান। খবর পেয়ে সলিমগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠান ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ রায়পুরার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পরিবার।