রিপাবলিকানদের সীমানা র্নির্ধারণ করা ফ্লোরিডার চারটি কংগ্রেশনাল আসনের মধ্যে তিনটিতে জয়লাভ করেছে ডেমোক্র্যাটরা এবং চতুর্থ আসনেও সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিসান্টিস এবং অঙ্গরাজ্য আইনসভার নিয়ন্ত্রণকারী রিপাবলিকানরা চলতি বছরের শুরুর দিকে নবম, ১৪তম, ২২তম এবং ২৫তম আসনগুলোর সীমানা এমনভাবে নতুন করে আঁকেন যা তাদের অনুকূলে যায়। এই সীমানা ২০২৪ সালে কার্যকর থাকলে একটি ছাড়া বাকি সবকটিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই অঙ্কের ব্যবধানে জয়ী হতেন এবং শেষ আসনটিতে প্রায় নয় পয়েন্টে এগিয়ে থাকতেন।
তবে মঙ্গলবারের নির্বাচনে সেই হিসাব উল্টে দিয়ে ডেমোক্র্যাটরা তিনটি আসনে জয় সুনিশ্চিত করেছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্যাথি ক্যাস্টর, পিয়া ডান্ডিয়া এবং জ্যারেড মসকোভিচ যথাক্রমে ১৪তম, ২২তম এবং ২৫তম আসনে জয়ের পূর্বাভাস পেয়েছেন, আর নবম আসনে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট ড্যারেন সোটো।
ফ্লোরিডায় রিপাবলিকানদের এই পদক্ষেপটি ছিল ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের দ্বারা টেক্সাস, অ্যালাবামা, মিসৌরি, টেনেসি এবং নর্থ ক্যারোলাইনাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সীমানা পুনর্নির্ধারণের দেশব্যাপী চেষ্টার একটি অংশ। নতুন এই সীমানার পরও টেক্সাস এবং নর্থ ক্যারোলাইনার কিছু আসন ডেমোক্র্যাটদের জন্য জয়াযোগ্য বলে মনে হচ্ছে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনী আইন বিষয়ক অধ্যাপক নিকোলাস স্টেফানোপোলোস এই ফলাফলের বিষয়ে এক্সে পোস্ট করে সতর্ক করে লিখেছেন, ‘জেরিম্যান্ডারিং বা সীমানা পুনর্নির্ধারণ জিওপির জন্য আশানুরূপ লাভ এনে দিচ্ছে না। একটি নিরপেক্ষ পরিবেশে তারা নেট প্রায় নয়টি আসন পেত। এমনকি এই পরিবেশেও তাদের নতুন মানচিত্রগুলো পুরনো মানচিত্রের চেয়ে ভালো পারফর্ম করবে।’
এই সাফল্য ফ্লোরিডায় ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি অভাবনীয় শক্তিশালী রাতের অংশ হিসেবে এসেছে। অথচ ২০২৪ সালে ট্রাম্প এই অঙ্গরাজ্যে সহজে জয়ী হয়েছিলেন এবং চার বছর আগে গভর্নর রন ডিসান্টিস প্রায় ২০ পয়েন্টের ব্যবধানে জিতেছিলেন, যা একসময় ডেমোক্র্যাটদের জন্য হাতছাড়া হওয়া রাজ্য হিসেবে দেখা হতো।
এদিকে ক্ষমতাসীন সিনেটর অ্যাশলি মুডি ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাঞ্জি নিক্সনকে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত করেছেন এবং রিপাবলিকান বাইরন ডোনাল্ডস গভর্নর পদে খুব অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান