শেখ হাসিনার পালানোর ভিডিওর সঙ্গে তাহসিফ হত্যার যোগসূত্র খুঁজতে তদন্ত

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যার পেছনে অন্য কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্ত সংস্থা। তাহসিফের শেয়ার করা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হেলিকপ্টারে দেশত্যাগের ভিডিও এবং তার কাছে সেদিনের আরও কোনো ভিডিও ফুটেজ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) আদালতে এক অভিযুক্ত নারী আসামির পুনরায় রিমান্ড শুনানি শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

এদিন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে তাহসিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ওই নারীর রিমান্ড শুনানি হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, তাহসিফের ধারণ (শেয়ার) করা ভিডিওটি দেশের মানুষের কাছে শেখ হাসিনার হেলিকপ্টারে দেশত্যাগের দৃশ্য তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ওই ভিডিওর কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা কোনো একটি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত করছেন না। তাহসিফের ওই ভিডিও, সেদিনের অন্য কোনো ঘটনার ফুটেজ তার কাছে ছিল কি না এবং এসবের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না- সব বিষয়ই বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে আদালতে শুনানির শুরুতে তদন্ত কর্মকর্তা আগের রিমান্ডে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, তদন্তে দুজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এসেছে। তারা বিভিন্ন সময়ে একেক রকম বক্তব্য দিচ্ছেন। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। 

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, আমার মক্কেলকে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত তাহসিফ নিজেই তাকে বাসায় পৌঁছে দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে কোনো সমস্যা থাকলে এমনটি হওয়ার কথা নয় বলে দাবি করেন তিনি। পরে আসামির নারী ও ছাত্রী পরিচয় বিবেচনায় নিয়ে আদালতের কাছে আবেদন জানান। 

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত ওই নারীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।