সরকারি চাকরি দলীয় কর্মীদের পুরস্কৃত করার জায়গা নয়: শিবির সভাপতি

জুলাই সনদের আলোকে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সংস্কার, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, সরকারি চাকরি কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগত কর্মীদের পুরস্কৃত করার জায়গা নয়; এটি রাষ্ট্রের সেবা করার দায়িত্ব। তাই নিয়োগ হতে হবে যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ডাকসু ভবনের সামনে ‘নির্ভীক জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা। কিন্তু পিএসসি, ইউজিসি, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে দলীয়করণের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পিএসসির কাঠামোগত সংস্কারে জুলাই সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, কমিশনের প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে চূড়ান্ত নিয়োগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১২ মাসের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ‘ওয়ান ইয়ার, ওয়ান বিসিএস’ নীতি এবং বার্ষিক নিয়োগ ক্যালেন্ডার চালুরও প্রস্তাব দেন তিনি।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১ হাজার ২০০ জনের বেশি প্রার্থীকে নিয়োগপত্র না দেওয়া এবং বিভিন্ন বিসিএসের গেজেট থেকে প্রার্থী বাদ দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিবির সভাপতি। রাজনৈতিক পরিচয় বা পরিবারের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে কাউকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নিয়োগব্যবস্থা সংস্কারে ১৩ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে সংগঠনটি। এর মধ্যে রয়েছে নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রভাব বন্ধ, পুলিশ ভেরিফিকেশন ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন, নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেলে প্রার্থীকে লিখিতভাবে কারণ জানানো এবং আপিলের সুযোগ রাখা। এ ছাড়া মৌখিক পরীক্ষার অভিন্ন মূল্যায়ন কাঠামো, ভাইভার অডিও রেকর্ড সংরক্ষণ এবং প্রশ্নফাঁস ও প্রক্সি ঠেকাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়।