স্ত্রীর ছবি নিয়ে বিরোধের জেরে বন্ধুকে হত্যা, কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড

স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে প্রকাশ এবং সেগুলো মুছে ফেলতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে বন্ধুকে হত্যার দায়ে এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কুয়েতের একটি ফৌজদারি আদালত।

বুধবার (৪ নভেম্বর) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।

মামলার কৌঁসুলিদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি আসামির স্ত্রীর কিছু ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেছিলেন। বারবার অনুরোধ করার পরও তিনি ছবিগুলো সরিয়ে নিতে রাজি হননি।

আদালতে আসামি জানান, তার বন্ধুটি স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই তাদের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ছবিগুলো তুলেছিলেন। পরে স্ত্রীর বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্যসহ ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এ কারণে তিনি বন্ধুকে একাধিকবার ছবিগুলো মুছে ফেলার অনুরোধ জানান।

তবে বন্ধুটি আগের ছবিগুলো সরিয়ে না নিয়ে পরবর্তী সময়ে আরও ছবি প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ করেন আসামি। বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে স্ত্রীর সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়। একপর্যায়ে এ বিরোধের জেরে প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে আদালতে জানান তিনি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি ছুরি নিয়ে তাদের কর্মস্থলের বাইরে ওত পেতে থাকেন। তার বন্ধু ওই স্থানে রয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি সেখানে অপেক্ষা করেন।

এরপর বন্ধু বাইরে আসতেই তার ওপর হামলা চালান অভিযুক্ত ব্যক্তি। মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে বারবার ছুরিকাঘাত করেন তিনি। এতে গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান অভিযুক্তের বন্ধু। আদালতে শুনানির সময় তিনি অপরাধ স্বীকারও করেন।

আদালতের শুনানিতে আসামি হত্যার দায় স্বীকার করেন। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তবে স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ছবি সরিয়ে নিতে বারবার অনুরোধ করেও ব্যর্থ হওয়ায় তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আদালত অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি ও মামলার অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তাকে ইচ্ছাকৃত ও পূর্বপরিকল্পিত হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। পরে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।