ইরানকে তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কভিত্তিক বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরদিন মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট এই নতুন নিষেধাজ্ঞা উন্মোচন করে।
এই নিষেধাজ্ঞাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অংশ, যার লক্ষ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে অর্থায়নের জন্য ইরানের তেল বিক্রির সক্ষমতা বিচ্ছিন্ন করা। ইরান সরকারকে সমর্থনকারী, কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে।
নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তদের মধ্যে চণ্ডীগড়ের বাসিন্দা সুনীল কুমার শর্মা এবং তার স্ত্রী জাসপ্রীত প্রীতি শহীদ রয়েছেন। এছাড়া এই দম্পতির দুটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে কর্মরত আরও দুই ভারতীয় নাগরিক এবং শর্মার সঙ্গে যুক্ত নয়টি পৃথক প্রতিষ্ঠানকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘তাদের পরিকল্পনাগুলো সামুদ্রিক প্রতারণার মাধ্যমে ইরানি পেট্রোলিয়াম পরিবহনে জড়িত নিষিদ্ধ জাহাজগুলোকে মিথ্যা পতাকা ও সনদ প্রদান করেছে, যার মধ্যে ইরানি সামরিক বাহিনী এবং তার প্রক্সিদের পক্ষে পরিচালিত জাহাজও রয়েছে।’
ভুল পতাকা এবং ভুয়া সামুদ্রিক সার্টিফিকেশন বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত জাহাজগুলোকে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা ও পরিবেশগত প্রবিধান এড়াতে সহায়তা করে, যেখানে কোনো ক্ষতিপূরণ বীমা থাকে না। এর ফলে এই জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক জলসীমায় পরিচালনা করার সময় সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনীতিতে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি করতে পারে।
ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট আরও জানিয়েছে, শর্মা ও শহীদ প্রতারণামূলকভাবে গায়ানা, এসোয়াতিনি এবং লাওসের মতো দেশের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করে পতাকা ও সনদ ইস্যু করেছিলেন। শর্মার নেটওয়ার্ক ওয়েব ডোমেইন কিনে এমন সব ওয়েবসাইট তৈরি করেছিল যা এই দেশগুলোর পক্ষে ফ্ল্যাগিং, সেফিয়ার প্রশিক্ষণ ও সনদ এবং জাহাজের শ্রেণীবিভাগের সেবা দেওয়ার দাবি করত।
সূত্র: এনডিটিভি