গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিক হোসেনের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
স্বামীকে হারিয়ে ১১ মাসের শিশুসন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়া তৌফিকের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে পরিবারের দায়িত্ব ও দুরবস্থার খোঁজ নিয়েছেন দলটির আমির।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য জানান জামায়াত আমির।
ফোনালাপে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তৌফিক ও তার বড় ভাই দুজনই একই পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা দুই ভাইয়ের জীবন ছিল অনেক কষ্টের। চোখের সামনে ভাইকে হারিয়ে শেষ কথাটুকুও বলতে না পারার কষ্টে ভেঙে পড়েন বড় ভাই।
জামায়াত আমিরের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, তৌফিক ও তার বড় ভাই দুজনই এতিম। অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা দুই ভাই একই পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। কিন্তু শ্রমিক আন্দোলনে চোখের সামনেই ছোট ভাইকে হারিয়েছেন বড় ভাই। হাসপাতালে নেওয়ার পরও তৌফিক সংজ্ঞাহীন থাকায় শেষবারের মতো তার সঙ্গে কথাও বলতে পারেননি তিনি।
তৌফিকের পারিবারিক দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে জামায়াত আমির জানান, তৌফিকের স্ত্রীও আগে অভাবের তাড়নায় পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। তবে একমাত্র সন্তানের জন্মের পর তার লালন-পালনের জন্য চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। তাদের সন্তানের বয়স এখন মাত্র ১১ মাস। স্বামীকে হারিয়ে শিশুসন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন তিনি।
পরিবারটির নিজস্ব কোনো বসতভিটাও নেই। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মাথা গোঁজার মতো এক ইঞ্চি জমিও নেই তাদের। বর্তমানে স্বামীর চাচার ছোট একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন তৌফিকের স্ত্রী ও সন্তান।
তৌফিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দরিদ্র মানুষের বিচার পাওয়ার সুযোগ নিয়ে সংশয় থাকলেও তারা ন্যায়বিচারের দাবি জানাবেন। ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে অসহায় স্ত্রী ও পরিবার কিছুটা হলেও সান্ত্বনা পাবে।
সবশেষ তিনি বলেন, আমরা ইনশাআল্লাহ এই পরিবারের পাশে থাকব। আল্লাহ তাআলা এই অসহায় পরিবারের সহায় হোন। আমিন।
এদিকে নিহতের পরিবারের সঙ্গে ফোনালাপের সময় উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের গাইবান্ধা জেলা শাখার আমির ও সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, সাবেক জেলা আমির ও গোবিন্দগঞ্জ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী চিকিৎসক ডা. আব্দুর রহিম সরকার, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমিরসহ স্থানীয় নেতারা। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নিতে ও সান্ত্বনা জানাতে সেখানে উপস্থিত হন।