সব জল্পনা-কল্পনা অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এ বছরের পর্যটন মৌসুমের প্রথম পর্যটকবাহী জাহাজ ৮৩৬ জন যাত্রী নিয়ে নিরাপদে সেন্টমার্টিনে পৌঁছেছে। পর্যটকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন দ্বীপের বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে এমভি বার আউলিয়া জাহাজটি সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা হয়। পরে দুপুরের দিকে জাহাজটি দ্বীপে পৌঁছালে পর্যটকদের স্বাগত জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
সেন্টমার্টিনের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বৃহস্পতিবার পর্যটকবাহী জাহাজ এমভি বার আউলিয়া পর্যটক নিয়ে দ্বীপে পৌঁছেছে। এতে দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পর্যটকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিতে পেরে তারা উচ্ছ্বসিত। তাদের প্রত্যাশা, পর্যটকেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করবেন।
এদিকে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে হোটেল-রিসোর্টের মালিকেরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। অনেক পর্যটক আগেই তাঁদের থাকার কক্ষ বুকিং দিয়েছেন।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ভ্রমণপিপাসুদের কাছে সেন্টমার্টিন একটি পছন্দের দ্বীপ। প্রতিবছর পর্যটন মৌসুমে দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা এখানে ঘুরতে আসেন। এ বছরও মৌসুমের প্রথম পর্যটকবাহী জাহাজ ৮৩৬ জন যাত্রী নিয়ে দ্বীপে পৌঁছালে পর্যটকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় দ্বীপে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের মধ্যেও আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।আমরা আশা করি, পর্যটকেরা তাঁদের মনের মতো করে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, সেন্টমার্টিনের মানুষ পর্যটননির্ভর। পর্যটন মৌসুমে অর্জিত আয় দিয়েই তাঁরা সারা বছরের সংসার খরচ জোগাড় করেন।
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে পর্যটকদের নিয়ে এমভি বার আউলিয়া সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। যাত্রীসংখ্যা ৮৩৬ জন হওয়ায় প্রথম দিন একটি জাহাজ ছেড়ে গেছে। জাহাজটি সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া জেটিঘাট থেকে ৮৩৬ জন যাত্রী নিয়ে রওনা হয়। পরে দুপুরের দিকে সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে পৌঁছায়।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া জেটিঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে আসা পর্যটন মৌসুমের প্রথম পর্যটকবাহী জাহাজটি নিরাপদে দ্বীপের জেটিঘাটে পৌঁছেছে। জাহাজটি পৌঁছালে দ্বীপের বাসিন্দারা পর্যটকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।
তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।