এবার বাড়ল বিমানের জেট ফুয়েলের দাম, আজ থেকে কার্যকর

দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট এ-১ এর দাম প্রতি লিটারে ৬ টাকা ৩২ পয়সা বাড়িয়ে ১৮৯ টাকা ৩ পয়সা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

অক্টোবরে এই জ্বালানির দাম ছিল প্রতি লিটার ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা।

একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য জেট এ-১ এর নতুন দাম প্রতি লিটার ১ দশমিক ১৬৩৭ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জেট ফুয়েলের নতুন দর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দর আজ দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই দাম বহাল থাকবে।

এর আগে, ২০২৫ সালের মে মাস থেকে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করছে তারা।

বিইআরসির নতুন দর বলছে, দেশের ভেতরে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১৮৯ টাকা ৩ পয়সা। এটি আগে ছিল ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে এর দাম ছিল ৯৫ টাকা ১২ পয়সা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর গত মার্চে দুই দফায় প্রতি লিটারে বেড়েছিল মোট ১০৭ টাকা।

বিইআরসি জানায়, দেশের মধ্যে জেট ফুয়েল বিক্রির ক্ষেত্রে দুই দফায় ভ্যাট প্রযোজ্য। এটি এত দিন ১৭ শতাংশ ধরে আদায় করা হয়েছে। এ হিসাব ঠিক ছিল না, সম্প্রতি তা সংশোধন করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে সতর্ক করা হয়েছে। তাই এ মাসে সাড়ে ২২ শতাংশ ভ্যাট ধরে হিসাব করা হয়েছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দাম কমলেও দেশের মধ্যে ভ্যাটের কারণে দাম বেড়েছে।

এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে আক্রমণের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত। এরপর ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে হামলা শুরু করলে তেলসমৃদ্ধ ওই অঞ্চলের প্রায় পুরোটাজুড়ে যুদ্ধ বিস্তৃত হয়। দুই পক্ষের হামলায় লক্ষ্যবস্তু হয় জ্বালানি স্থাপনাগুলো। এতে জ্বালানির দাম অস্থির হয়ে ওঠে বিশ্ববাজারে। এরপর যুদ্ধবিরতি শুরু হলে দাম কমতে শুরু করে।

আগে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ধারা অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করে দেয়। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল, জেট এ-১-এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসিকে দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনের পর গত বছরের ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানি গ্রহণ করে বিইআরসি। এরপর থেকে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।