চট্টগ্রামের স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের ১৪ মিলিয়ন ডলার ঋণ

চট্টগ্রাম নগরীতে নিরাপদ পানি সরবরাহ বৃদ্ধি ও উন্নত স্যানিটেশন সেবার পরিধি বাড়াতে বাংলাদেশকে ১৪ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নতি প্রকল্পের (সিডব্লিউএসআইপি) আওতায় বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) মধ্যে এই ঋণ চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহ্‌রিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিষয়ক ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (চট্টগ্রাম ওয়াসা) দ্বারা বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২৫ সালে শুরু হওয়া এই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ২০৩০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।

মূল উদ্দেশ্য ও অর্থায়নের প্রেক্ষাপট
চট্টগ্রাম নগরবাসীর জন্য নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও জলবায়ু-সহনশীল পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রাতিষ্ঠানিক, আর্থিক ও প্রযুক্তিগত পরিচালন দক্ষতা বাড়ানোও এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

এর আগে প্রকল্পটির মূল ২৪ মিলিয়ন ডলার বাজেট থেকে ১৪ মিলিয়ন ডলার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা উপাদান বা কন্টিনজেন্সি ইমার্জেন্সি রেসপন্স কম্পোনেন্টে (সিইআরপি) স্থানান্তর করা হয়েছিল। নতুন করে পাওয়া এই ১৪ মিলিয়ন ডলার (যা ১০২.৩০ মিলিয়ন এসডিআর-এর সমতুল্য) প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের শেষ নাগাদ নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ ও প্রকল্পটির ধারাবাহিকতা রক্ষা নিশ্চিত করবে।

ঋণের শর্তাবলী
আইডিএ-এর বিশেষ সুবিধা স্কেল-আপ উইন্ডো-শর্টার ম্যাচিউরিটি লোনের (এসইউডব্লিউ-এসএমএল)-এর অধীনে এই অতিরিক্ত অর্থায়ন অনুমোদন করা হয়েছে। ৬ বছরের গ্রেস পিরিয়ড সহ সর্বমোট ১২ বছরে বাংলাদেশ সরকারকে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই ফান্ড থেকে উত্তোলিত অর্থের ওপর কোনো প্রকার সুদ, সার্ভিস চার্জ কিংবা কমিটমেন্ট ফি দিতে হবে না।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বৃহত্তম বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা হিসেবে বিশ্বব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি খাতের আধুনিকায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সার্বিক সামাজিক-অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বড় ধরনের অর্থায়ন বজায় রেখে আসছে।