বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। তিনি দাবি করেছেন, চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৯০ শতাংশই কোনো কারখানার শ্রমিক নন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মিলনায়তনে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, নারায়ণগঞ্জে পাঁচ শতাধিক পোশাক কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১২ থেকে ১৩টি কারখানায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। অথচ আন্দোলনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ ব্যক্তিই কারখানার শ্রমিক নন। এ পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষের উসকানিতে প্রভাবিত না হতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পোশাকশিল্পকে ঘিরে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, শিল্প খাতকে ধ্বংস করা এবং সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলার উদ্দেশ্যে একটি মহল তৎপর রয়েছে। আগে থেকেই পরিকল্পনা করে নির্দিষ্ট একটি স্থানে সড়ক অবরোধের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে নারায়ণগঞ্জের মানুষের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়নি।
শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও সম্মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সরকার ও মজুরি বোর্ড যে পরিমাণ মজুরি নির্ধারণ করবে, মালিকপক্ষ তা দিতে প্রস্তুত। আন্দোলন থেকে সরে এসে কাজে ফেরায় নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন, পুলিশ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
দেশের শিল্প ও অর্থনীতির স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন। এ কারণে দলীয় অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান বলেন, চলমান শ্রমিক অসন্তোষে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির ভূমিকা ব্যবসায়ীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ ও হতাশাজনক মনে হয়েছে। বিষয়টি তাদের কাছে রহস্যজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দেবে, ব্যবসায়ীরা সম্মিলিতভাবে তা গ্রহণ করবেন। অতীতেও ব্যবসায়ীরা মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেননি।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। এ সময় আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।