চোয়ালের হাড় ভাঙার চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার পথে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চেলসির অনুশীলনে ফিরেছেন তিনি। তবে অনুশীলনে তার মুখে দেখা গেছে বিশেষভাবে তৈরি কার্বন ফাইবারের মাস্ক। চোট পাওয়া চোয়ালকে সম্ভাব্য আঘাত থেকে সুরক্ষিত রাখতেই এই ব্যবস্থা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে নভেম্বরের দুটি প্রীতি ম্যাচের দলে ডাক পান মার্টিনেজ। এর পরদিনই চেলসির অনুশীলনে ফেরেন তিনি। চিকিৎসকেরা তার সুস্থ হতে ৪০ থেকে ৬০ দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা দিয়েছিলেন।
তবে প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত সেরে উঠছেন এই আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক। এমনকি চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই মাঠে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তার। খেলতে পারেন আর্জেন্টিনার দুই প্রীতি ম্যাচও।
অনুশীলনে মার্টিনেজের ব্যবহৃত মাস্কটি বিশেষভাবে তার জন্য তৈরি করা হয়েছে। হালকা ও টেকসই কার্বন ফাইবার দিয়ে বানানো এই সুরক্ষাসামগ্রীতে রয়েছে ভেতরের দিকে বিশেষ প্যাডিং, যা আঘাতের ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করবে। অস্ত্রোপচার করা চোয়ালের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে এর আকৃতি।
গত অক্টোবরের মাঝামাঝি এভারটনের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে চোট পান মার্টিনেজ। প্রতিপক্ষের ক্রস ঠেকাতে এগিয়ে এসে জ্যারাড ব্র্যান্থওয়েটের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় তার। আঘাতের পর আট মিনিটের বেশি সময় মাঠেই চিকিৎসা নিতে হয় তাকে। এ সময় অক্সিজেনও দেওয়া হয়েছিল। পরে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন তিনি। পরীক্ষায় চোয়ালের হাড় ভাঙার বিষয়টি নিশ্চিত হলে অস্ত্রোপচার করাতে হয় তাকে।
অস্ত্রোপচারের মাত্র চার দিন পর থেকেই জিমে অনুশীলন শুরু করেন মার্টিনেজ। স্টেশনারি সাইকেলেও ব্যায়াম করেছেন তিনি। এবার অনুশীলন মাঠে ফেরায় প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফেরার পথে আরও এক ধাপ এগোলেন এই গোলরক্ষক। তবে মাঠে ফেরার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চূড়ান্ত অনুমতি প্রয়োজন।
সম্প্রতি ‘লস এদুল’-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে চোটের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন মার্টিনেজ। তিনি বলেন, ‘এটা যদি ইউএফসিতে হতো, তাহলে রাতের সেরা নকআউট হতো। কয়েক দিন ধরে চোখের সামনে পাখি উড়তে দেখেছি। আমি জ্ঞান হারিয়েছিলাম। আমার শুধু মনে আছে, কাইসেদো ফাউল করেছিল। আঘাতের মুহূর্ত, স্টেডিয়াম থেকে বের হওয়া; কিছুই মনে নেই।’
অস্ত্রোপচারের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের সময় চারটি স্ক্রু দিয়ে একটি প্লেট বসানো হয়েছে। একটি বাইরে, বাকি তিনটি ভেতরে। এতে আমার তিনটি দাঁতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন কিছু খেতে পারি না, সবকিছু পিউরি করে খেতে হচ্ছে, একেবারে শিশুর মতো। পুষ্টিবিদ আমাকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করছেন। তবে অনুশীলনের বাইরে শরীরে শক্তির অভাব অনুভব করছি।’