মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদন করলো তুরস্কের পার্লামেন্ট

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদন করেছে তুরস্কের পার্লামেন্ট। চুক্তিতে যৌথ প্রতিরক্ষার বিধান রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, চুক্তিতে থাকা কোনো দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলো তাকে সহায়তা করবে। এর ফলে হামলার শিকার হলে এই জোটকে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলো ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্ক।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তুরস্কের পার্লামেন্টে চুক্তিটি অনুমোদন করা হয়। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলার মধ্যেই চুক্তি অনুমোদন করা হলো। এর আগে গত আগস্টে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে প্রথম স্বাক্ষর করে তুরস্ক। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতেবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। 

গত আগস্টে তুরস্ক প্রথমবারের মতো মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এরপর গত মাসে অনুমোদনের জন্য চুক্তিটি পার্লামেন্টে পাঠানো হয়।

বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, চুক্তি অনুমোদনের প্রস্তাবের প্রথম অনুচ্ছেদ বুধবার তুরস্কের পার্লামেন্টে গৃহীত হয়। তবে এরপর পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার জেলাল আদান অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে অধিবেশন আবার শুরু হলে চুক্তির বাকি অনুচ্ছেদগুলো নিয়ে আলোচনা করেন আইনপ্রণেতারা। শেষ পর্যন্ত ২৭৯ ভোটে চুক্তিটি অনুমোদিত হয়। বিপক্ষে ভোট দেন ১১৯ জন। পার্লামেন্টের ৫৯২ সদস্যের মধ্যে ভোটে অংশ নেন ৩৯৮ জন।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা তুরস্কের পার্লামেন্টে জমা দেয়া নথি অনুযায়ী, চুক্তিতে মোট ১৬টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সদস্যদেশগুলো একে অপরের ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য হুমকি তৈরি করে—এমন যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘সব ধরনের প্রয়োজনীয় উপায়’ ব্যবহার করবে। কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে এই অনুচ্ছেদ কার্যকর করা যাবে।

প্রথম অনুচ্ছেদ কার্যকর হলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা-ও চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। চুক্তির দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘অন্য কোনো দেশ বা দেশগুলোর জোটের সশস্ত্র হামলা কিংবা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে চুক্তির অন্য পক্ষগুলো তাদের হাতে থাকা পারস্পরিক সহায়তার সব উপায় কাজে লাগিয়ে আক্রান্ত দেশকে অবিলম্বে সহায়তা দেবে।’

চুক্তির এই গুরুত্বপূর্ণ ধারা নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি বা উত্তর আটলান্টিক চুক্তির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের (আর্টিকেল ফাইভ) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই চুক্তির মাধ্যমেই ন্যাটো সামরিক জোট প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জোটের কোনো একটি সদস্যের ওপর হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এদিকে তুরস্ক একই সঙ্গে ন্যাটো ও মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য হওয়ায় দেশটির সামরিক সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা। তবে তুরস্কের কর্মকর্তারা এ ধরনের উদ্বেগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

এদিকে ইরানের বাকি অংশও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ধ্বংস’ করতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, দেশটি পুনর্গঠন করতে ২৫ বছর সময় লাগবে। তবে তিনি এমন পদক্ষেপ নেবেন কি না, তা ‘শিগগিরই জানা যাবে’ বলেও মন্তব্য করেছেন।

এদিকে, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পারমাণবিক বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান বলে খবর পাওয়া গেছে। ওয়াশিংটন প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। অন্যদিকে, নিজেদের সাতটি দাবি পূরণের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট মক্কায় অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় সম্মেলনে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা বাকি দুই দেশের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।

সূত্র: আল-জাজিরা