পারিবারিক বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ 

স্ত্রী-শ্যালক-শাশুড়িসহ ৬ স্বজনকে হত্যা করে ক্যাবচালক 

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের বেঙ্গালুরুতে পারিবারিক বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগে স্ত্রী ও তার পরিবারের ছয় সদস্যকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ক্যাবচালকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের নাম ইন্দুশেখর। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন তার স্ত্রী সুনীতা, দুই শ্যালক, তাদের দুই স্ত্রী, শাশুড়ি এবং সাত বছর বয়সী এক শিশু।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে—পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল ইন্দুশেখরের। প্রায় ২০ বছর আগে সুনীতার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তারা বেঙ্গালুরুর রাজাজিনগর এলাকায় বসবাস করতেন। দাম্পত্য বিরোধ মেটাতে আত্মীয়স্বজন একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও তাদের মধ্যে বিরোধ চলতে থাকে। এ সময় স্ত্রীর মা ও ভাইয়েরা সুনীতাকে সমর্থন করায় তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ইন্দুশেখর। 

পুলিশের ধারণা, একপর্যায়ে স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের নিজের জীবনে হস্তক্ষেপকারী মনে করে তাদের হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রথমে স্ত্রী সুনীতাকে হত্যা করেন ইন্দুশেখর। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি শিলপাটা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ নন্দী হিলসে নিয়ে ফেলে আসেন তিনি। এদিকে প্রতিবেশীদের সন্দেহ এড়াতে স্ত্রী বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গেছেন এবং মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন বলে জানান।

এর পরদিন দুই শ্যালক শিবকুমার ও শঙ্করকে মদ্যপানের আসরের কথা বলে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন ইন্দুশেখর। সেখানে তাদের হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাদের স্ত্রী নলিনী ও দিব্যা, নিজের শাশুড়ি রূপাবতী এবং শঙ্করের সাত বছর বয়সী ছেলে পুনীতকেও হত্যা করেন তিনি।

পুলিশের ধারণা, পরিবারের সদস্যদের একে একে বাড়িতে ডেকে হত্যা করা হয়। পরে হত্যার ঘটনা আড়াল করতে মরদেহগুলো বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর বাড়িতে রক্তের দাগ পরিষ্কার করেন অভিযুক্ত। এ ছাড়া হত্যায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা শিলপাটাটি রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে ধুয়ে ফেলেন। তদন্তকারীরা শিলপাটা ও মরদেহ পরিবহনে ব্যবহৃত সন্দেহে একটি গাড়ি জব্দ করেছেন।

এদিকে নলিনীর মা পুলিশের কাছে পরিবারের সদস্যদের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করলে ঘটনাটি তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে ইন্দুশেখরের বক্তব্যে অসংগতি এবং তার বাড়ি থেকে পাওয়া বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে তার ওপর সন্দেহ তৈরি হয়। পরে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন বলে দাবি পুলিশের।

তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্তকে নিয়ে নন্দী হিলসে অভিযান চালায় পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার তল্লাশির পর সেখান থেকে সাত বছর বয়সী পুনীতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাকি মরদেহগুলোর সন্ধানে অভিযান চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত। তবে হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ সহযোগিতা করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে অভিযুক্তের মেয়ের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে শুক্রবার কর্ণাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। মনে হচ্ছে, পরিবারের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার স্ত্রীর পরিবারের সাত সদস্যকে হত্যা করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত দাবি করেছেন, স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি অপমানিত বোধ করতেন। নিশ্চিতভাবেই বিকৃত মানসিকতার কোনো ব্যক্তি এই কাজ করেছেন। রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে মরদেহগুলো কোথায় রাখা হয়েছে, সে সম্পর্কেও তিনি তথ্য দিয়েছেন।’