মিসাইলের রেঞ্জ ২ হাজার কিমি রাখার বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করল ইরান

নিজেদের তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা (রেঞ্জ) দুই হাজার কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নীতি থেকে সরে এসেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এখন থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা নির্ধারণে আর এই সীমা মানা হবে না। ফলে ভবিষ্যতে দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পথ খুলছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেন মোহেব্বি।

সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দেশটির ওপর নতুন করে কোনো হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে ভৌগোলিক কোনো সীমাবদ্ধতা মানা হবে না। তাঁর ওই বক্তব্যের কয়েক দিনের মাথায় ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা নিয়ে নতুন অবস্থানের কথা জানাল আইআরজিসি।

সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোসেন মোহেব্বি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার ওপর থেকে সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শুধু বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না ইরান, বাস্তবেও তা দেখানো হবে।

তবে ইরানের কাছে বর্তমানে দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে কি না, কিংবা অতীতে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি।

এত দিন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা দুই হাজার কিলোমিটারে সীমাবদ্ধ রাখার নীতি কার্যকর ছিল। এই দূরত্বের মধ্যে ইউরোপের গ্রিস ও বলকান অঞ্চলের কিছু অংশ, পুরো আরব উপদ্বীপ এবং মিসরের বড় একটি অংশ রয়েছে। পাল্লা বাড়ানো হলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় আরও অনেক দেশ চলে আসতে পারে।

চলতি বছরের মার্চে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। দেশটি থেকে ঘাঁটির দূরত্ব প্রায় চার হাজার কিলোমিটার। নির্ধারিত দুই হাজার কিলোমিটারের সীমা ছাড়িয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনায় তখন ইরানের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে ওই ঘাঁটির দিকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই মাঝপথে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরান তাদের মহাকাশ কর্মসূচিকে কাজে লাগিয়ে আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

সূত্র: এপি