এইচএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণে আবেদনের সময় বাড়ল

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনের সময় আরও ১২ ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। অনলাইনে কারিগরি জটিলতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে না পারায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টার পরিবর্তে রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কারিগরি ত্রুটির কারণে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদন প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়। এতে অনেক পরীক্ষার্থী ওই সময়ে আবেদন করতে পারেননি। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আবেদনের সময় বাড়িয়ে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে, এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য ১০ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। সাত দিনে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থী মোট ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭টি আবেদন করেছেন। গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারই সর্বোচ্চসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার রাতে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থী ফল পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেছেন। একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয় ও পত্রের জন্য আবেদন করতে পারেন। সব মিলিয়ে আবেদনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭টি।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ২ লাখ ২৬ হাজার ৫৬১ জন পরীক্ষার্থী ৪ লাখ ২৮ হাজার ৪৫৮টি খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন। এর আগের বছর ২০২৪ সালে আবেদন জমা পড়েছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ১১৬টি। সেই হিসাবে গত দুই বছরের তুলনায় এবার আবেদনের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।

যেভাবে প্রকাশ হবে পুনঃনিরীক্ষণের ফল

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল আগামী ২৭ নভেম্বর প্রকাশ করা হবে। এ জন্য নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কাজ শেষ করার প্রস্তুতি নিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু জানান, আবেদনপ্রক্রিয়া শেষে রোববার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কাছ থেকে আবেদনের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ৯ নভেম্বর কম্পিউটার সেল থেকে উত্তরপত্রের তথ্যসংবলিত তালিকা ও বিষয়ভিত্তিক তালিকা সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হবে। ১২ নভেম্বরের মধ্যে পুনর্মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষক নিয়োগ এবং প্রধান পরীক্ষকদের কাছ থেকে উত্তরপত্র সংগ্রহ করা হবে।

১৩ থেকে ১৯ নভেম্বরের মধ্যে পরীক্ষকদের ব্রিফিং ও পুনর্মূল্যায়নের কাজ চলবে। ২০ নভেম্বরের মধ্যে পরীক্ষকদের কম্পিউটার সেলে তথ্য পাঠাতে হবে। এরপর ২১ থেকে ২৩ নভেম্বর কম্পিউটার সেলে পরিবর্তিত নম্বর অন্তর্ভুক্তি ও উত্তরপত্রের কোড যাচাই করা হবে। ২৪ থেকে ২৬ নভেম্বর নম্বর পরিবর্তন হওয়া উত্তরপত্রগুলো চূড়ান্তভাবে যাচাই করা হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে ২৭ নভেম্বর ফল প্রকাশ করা হবে।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। গত ২২ বছরের মধ্যে এবার পাসের হার সর্বনিম্ন।