সকালের ৮টি ফজিলতপূর্ণ জিকির আমলনামায় যোগ করবে নেকি

সারা দিনের ব্যস্ততা ও ক্লান্তি শেষে সন্ধ্যা যেমন প্রশান্তির বার্তা নিয়ে আসে, তেমনি ভোরের আলোয় শুরু হয় নতুন দিন। একজন মুমিনের জীবনে সকাল ও সন্ধ্যার নির্দিষ্ট কিছু জিকির ও দোয়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এসব আমল আত্মিক প্রশান্তি অর্জনের পাশাপাশি আল্লাহর রহমত ও সুরক্ষা লাভের মাধ্যম হতে পারে। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সকাল-সন্ধ্যায় পাঠ করার জন্য বেশ কিছু জিকির ও দোয়া শিখিয়েছেন।

ফজরের পর সকাল এবং মাগরিবের পর সন্ধ্যায় এসব জিকির ও দোয়া পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর স্মরণে নিজের দিন শুরু ও শেষ করতে পারেন। নিচে গুরুত্বপূর্ণ আটটি জিকির, দোয়া ও আমল তুলে ধরা হলো।

১. সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার

আরবি:

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আন্তা রব্বি লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা, খালাকতানি ওয়া আনা আব্দুকা, ওয়া আনা আলা আহ্দিকা, ওয়া ওয়া’দিকা মাসতাতাতু, আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু, আবুউ লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়্যা, ওয়া আবুউ বিজাম্বি, ফাগফিরলি; ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আন্তা।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনিই আমার প্রতিপালক। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনারই বান্দা। আমি আমার সাধ্যানুযায়ী আপনার সঙ্গে করা অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার চেষ্টা করছি। আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। আমার ওপর আপনার দেওয়া নিয়ামত স্বীকার করছি এবং নিজের গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন। কারণ, আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।

ফজিলত: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সকালে বা সন্ধ্যায় এ দোয়া পাঠ করবে এবং ওই দিন বা রাতে তার মৃত্যু হয়, সে জান্নাত লাভ করবে। (সহিহ বুখারি: ৬৩০৬)

২. সব ধরনের অনিষ্ট থেকে বাঁচার দোয়া*

আরবি:

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি ওয়ালা ফিসসামাই ওয়া হুয়াসসামিউল আলিম।

অর্থ: আল্লাহর নামে, যার নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সবকিছু শোনেন ও জানেন।

ফজিলত: সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার এ দোয়া পাঠ করলে আল্লাহর ইচ্ছায় আসমান ও জমিনের কোনো অনিষ্ট বা বিপদ পাঠকারীর ক্ষতি করতে পারবে না। (সুনানে আবু দাউদ: ৫০৭২)

৩. সর্বশ্রেষ্ঠ জিকিরগুলোর একটি: তাসবিহ পাঠ

আরবি:

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি।

অর্থ: আল্লাহ পবিত্র এবং সব প্রশংসা তাঁরই।

ফজিলত: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় ১০০ বার এ তাসবিহ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তার চেয়ে উত্তম আমল নিয়ে আর কেউ উপস্থিত হতে পারবে না। (সহিহ মুসলিম)

৪. আয়াতুল কুরসি পাঠ

প্রতি ফরজ নামাজের পর এবং সকাল-সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পাঠের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হাদিসে এসেছে, প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠকারীর জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকে না। এ আয়াত পাঠের মাধ্যমে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকেও আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া হয়।

৫. আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন ও মুহাম্মদ (সা.)-কে নবী হিসেবে মেনে সন্তুষ্ট থাকার দোয়া

আরবি:

رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا

উচ্চারণ: রাদিতু বিল্লাহি রব্বান, ওয়াবিল ইসলামি দিনান, ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যান।

অর্থ: আমি আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।

ফজিলত: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার এ দোয়া পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে সন্তুষ্ট করবেন। (জামে তিরমিজি: ৩৩৮৯; সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৮৭০)

৬. জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া

আরবি:

اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন।

ফজিলত: হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর কারও সঙ্গে কথা বলার আগে সাতবার এ দোয়া পাঠ করবে এবং ওই দিন বা রাতে তার মৃত্যু হয়, সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে। (সুনানে আবু দাউদ: ৫০৭৯)

৭. সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ

সকাল ও সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক এবং সুরা নাস প্রতিটি তিনবার করে পাঠ করা সুন্নত আমলগুলোর মধ্যে অন্যতম।

ফজিলত: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সকাল ও সন্ধ্যায় এ তিনটি সুরা পাঠ করলে সব ধরনের অনিষ্ট ও বিপদ থেকে সুরক্ষার জন্য তা যথেষ্ট হবে। (জামে তিরমিজি: ৩৫৭৫)

৮. সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠ

মাগরিবের পর ‘আউযুবিল্লাহিস সামিয়িল আলিমি মিনাশ শাইতানির রজিম’ তিনবার পড়ে সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত একবার পাঠ করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

ফজিলত: বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি এ আমল করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য ৭০ হাজার রহমতের ফেরেশতা নিযুক্ত করবেন। তারা সকাল পর্যন্ত তার জন্য রহমতের দোয়া করতে থাকবেন। ওই রাতে তার মৃত্যু হলে শহীদের মৃত্যু নসিব হবে। (জামে তিরমিজি: ২৯২২)

সকাল ও সন্ধ্যা ইবাদত, আল্লাহর স্মরণ এবং আত্মিক প্রশান্তি অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে নিয়মিত জিকির ও দোয়া পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করতে পারেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এসব মাসনুন আমল নিয়মিত করার এবং এর বরকত লাভের তৌফিক দান করুন। আমিন।