কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার নরহরিপুর ফাজিল মাদ্রাসায় ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা চলছে। তবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিষয়টি ভুলে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, দেশজুড়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক দিবসটি পালিত হলেও নরহরিপুর ফাজিল মাদ্রাসায় সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে এলে তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে অধ্যক্ষকে বিষয়টি জানানো হলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাদ্রাসার এক কর্মচারীকে দিয়ে পতাকা উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হয়। অধ্যক্ষ নিজে প্রতিষ্ঠানে আসেন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় ও ঐতিহাসিক দিবসগুলো যথাযথভাবে পালন করা জরুরি। এসব দিবস শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং স্বাধিকার আন্দোলনের চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমন একটি দিবসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যথাযথ কর্মসূচি না থাকা দুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত।
এ বিষয়ে নরহরিপুর ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. ইসমাইল হোসেন জানান, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিষয়টি তিনি ভুলে গিয়েছিলেন। পরে বিষয়টি মনে পড়লে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাদ্রাসার পিয়নকে দিয়ে পতাকা উত্তোলনের ব্যবস্থা করেন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রতিষ্ঠানে এসে সহকর্মীদের নিয়ে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নাছির উদ্দিন জানান, তিনি বিষয়টি অবগত হয়েছেন। সরকারি নির্দেশনা পালনে কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।