লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে টাকা ছিনিয়ে নিতে চলন্ত অটোরিকশায় এক ব্যবসায়ীকে জবাই করে হত্যা করেছে ছিনতাইকারীরা। হত্যার শিকার ব্যবসায়ীর নাম আলমগীর হোসেন। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মেহেদী হাসান রুবেল ওরফে হাসেম ও অটোরিকশার চালক মো. সাগর।
এর আগে ওই দিন সকালে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাদের আটক করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা ও ছিনিয়ে নেওয়া আড়াই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল কাদেরের আদালতে হাজির করলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
রুবেল সদর উপজেলার পশ্চিম বটতলী গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। আর দক্ষিণ মান্দারী গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে অটোরিকশা চালক সাগর।
গত বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার কাজির দিঘীরপাড় বাজার এলাকার একটি ডোবা থেকে আলমগীর হোসেনের (৪০) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে গত মঙ্গলবার রাত আটটা থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
আলমগীর হোসেন রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের সাইছা গ্রামের মৃত বশির উল্যার ছেলে। রায়পুর পৌর শহরের প্রধান সড়কে তার তানহা কম্পিউটার নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। এছাড়াও তিনি সুপারি ও সয়াবিনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বর্ণনা দিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক (ওসি) মোকতার হোসেন জানান, সদর উপজেলার মান্দারী বাজারের সুপারি ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান রুবেল ও রায়পুর শহরের ব্যবসায়ী নিহত আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে দুইজন ব্যবসা করে আসছিলো। এর মধ্যে রুবেলের কাছে ১৫ লাখ টাকা পাওনা হন আলমগীর হোসেন। মঙ্গলবার বিকেলে আলমগীর ওই পাওনা টাকার জন্য মান্দারী বাজারে রুবেলের কাছে আসেন। এ সময় আলমগীরকে তিন লাখ টাকা দেয় রুবেল। আরও তিন লাখ টাকা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে একটি আটোরিকশা ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করে।
আরও পড়ুন: গোপিনাথপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু
এ সময় মো. ফয়েজ নামে এক পেশাদার কিলারকে অটোরিকশাতে উঠিয়ে নেয় রুবেল। আলমগীরকে অটোরিকশার মাঝখানে বসিয়ে ডানে পাশে বসে ফয়েজ ও বাম পাশে রুবেল। পরে রায়পুর উপজেলার মীরগঞ্জ সড়কে চলন্ত অটোরিকশাতে আলমগীরের হাত-পা চেপে ধরে রুবেল। এ সময় ছুরি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে ফয়েজ। পরে তার লাশ কাজিরদিঘীর পাড় এলাকায় একটি পুকুরে ফেলে দিয়ে তিন লাখ টাকা নিয়ে চলে যায় তারা। ওই তিন লাখ টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা ফয়েজকে দেওয়া হয়। বাকি আড়াই লাখ টাকা রুবেল নিয়ে যায়।
ইত্তেফাক/নূহু